অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১০:১২ এএম
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৬ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। ওই সময়ে আয় ছিল ৯৯৭ কোটি ৪ লাখ ডলার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে চালান কমলেও যুক্তরাষ্ট্র এবং অপ্রচলিত বাজারে ইতিবাচক ধারার কারণে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য তিন মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ৫৯৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই খাত থেকে আয় হয়েছিল ৫৫৮ কোটি ডলার। ফলে নিট পোশাকে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৬১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৪৩৯ কোটি ৪ লাখ ডলারের তুলনায় ৫ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে তিন মাসে রপ্তানি হয়েছে ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৪৭৪ কোটি ৬১ লাখ ডলারের তুলনায় এ অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৪৬ দশমিক ৩৬ শতাংশই গেছে এই জোটভুক্ত দেশগুলোতে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বাজারগুলোর মধ্যে স্পেনে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলারে, যেখানে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসে আয় হয়েছে ৫৯ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৯ দশমিক ০২ শতাংশ বেশি।
তবে জার্মানি ও ফ্রান্সে রপ্তানি কমেছে।
জার্মানিতে রপ্তানি সামান্য কমে ১১২ কোটি ৩০ লাখ ডলারে নেমেছে, পতনের হার শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। ফ্রান্সে চালান ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ৯৪ লাখ ডলারে।
একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রপ্তানি হয়েছে ২২২ কোটি ৯ লাখ ডলারের পোশাক। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকের ২০১ কোটি ১৭ লাখ ডলারের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ২০ দশমিক ৯৯ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে রপ্তানি আয় ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়ে ১২৯ কোটি ২১ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। কানাডায় রপ্তানি ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৯৭ লাখ ডলারে।
প্রচলিত প্রধান বাজারগুলোর বাইরে বিভিন্ন অপ্রচলিত গন্তব্যে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের ১৬৫ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। দেশের মোট পোশাক রপ্তানিতে এই অপ্রচলিত বাজারগুলোর অংশ ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।
অপ্রচলিত দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কে রপ্তানি বৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশটিতে আয় ১২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে। ব্রাজিলে রপ্তানি ৪১ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে ৬ কোটি ৩১ লাখ ডলার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে ৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার হয়েছে।
বিপরীতে কিছু অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি সংকুচিত হয়েছে।
রাশিয়ায় পোশাক রপ্তানি কমেছে ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ। নিউজিল্যান্ডে চালান কমেছে ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ভারতে কমেছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নিট ও ওভেন উভয় খাতেই রপ্তানি প্রবাহ ইতিবাচক ছিল বলে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মত দিয়েছেন। তবে ইউরোপের প্রধান কয়েকটি গন্তব্যে রপ্তানি হ্রাস পাওয়ায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে বিদ্যমান বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন দেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণের দিকে নজর রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন