শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,
স্বর্ণের বাজার

স্বর্ণের দামে বড় লাফ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

স্বর্ণের দামে বড় লাফ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এক শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দামে নতুন উল্লম্ফন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস এবং মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ চলতি মাসে সুদের হার বৃদ্ধি করবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৯ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়ায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার চুক্তি মূল্যও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৫ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার দেশ ইরানে কোনো সামরিক হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে চলছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।

জেফরিজের মালিকানাধীন ট্রেডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস জানান, তেলের মূল্য কমে আসায় চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিসুদ অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে যুক্তি শক্তিশালী হচ্ছে। এর প্রভাবে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং ট্রেজারি বন্ডের আয়ের হারও সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কিছুটা নেমে এসেছে। সার্বিক এই পরিস্থিতি স্বর্ণের মূল্য পুনরুদ্ধারের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের মান দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়, যা সরাসরি বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়ে দেয়।

তবে স্বর্ণের বাজারে বিদ্যমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন নিকোস জাবুরাস। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। বাজারে এখনো ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা বিদ্যমান এবং বন্ডের মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় স্বর্ণের দাম আবারও হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

সাধারণত উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ মজুত করেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিসুদ বৃদ্ধি পেলে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ মূল্যবান এই ধাতু থেকে কোনো নির্দিষ্ট সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না।

বৃহস্পতিবার সেন্ট লুইস ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি দুই শতাংশের অভীষ্ট লক্ষ্যে নামিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আবারও সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। তবে চলতি মাসের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে নির্দিষ্ট কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেননি।

এর আগে গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নীতিসুদ শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি করেছিল। শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ফেডওয়াচ টুলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চলতি অক্টোবরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদ বাড়ার সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও জোরালো ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। শুক্রবার স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৯০ দশমিক ৪৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬২ দশমিক ১৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী, মূল্য সংযোজন করসহ সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকায়। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৯৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।