বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তেল উত্তোলন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একলাফে পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৩ ডলারে উঠেছে।

জ্বালানি তেলের এই উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করেছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজার ও ঋণপত্র বা বন্ডবাজারে চরম অস্থিরতা ও বিক্রির জোরালো চাপ দেখা দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিকের একটি বিশেষ প্রতিবেদন বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের ভূখণ্ডে সম্ভাব্য সামরিক হামলার নীলনকশা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এই খবরের জেরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা যেকোনো সময় সর্বাত্মক রূপ নিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

একই সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে সাম্প্রতিক হামলা এবং জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ শৃঙ্খল বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে বুধবার কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় হতাহতের খবর পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

অন্যদিকে মেক্সিকো উপসাগরে সক্রিয় ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তীব্র প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলের জ্বালানি তেল উৎপাদন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বহুজাতিক তেল কোম্পানি শেল এবং শেভরন ইতিমধ্যে তাদের সংশ্লিষ্ট উত্তোলন কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন পুরোপুরি স্থগিত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশীয় ও ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে।

জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ২ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছে। একই প্রবণতায় ইউরোপের সমন্বিত স্টক্স ইউরোপ ৬০০ সূচকে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ পতন ঘটেছে।

অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি তেলের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে নতুন করে উসকে দিলে তা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে পুনরায় নীতিগত সুদের হার বাড়ানোর কঠোর পদক্ষেপে যেতে হতে পারে।