বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

অ্যাভিয়েশন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

অ্যাভিয়েশন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ

আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আকাশ পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিশ্বমানের পর্যটন খাত গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটিকে একটি শক্তিশালী অ্যাভিয়েশন হাব ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠার কৌশলগত পরিকল্পনা অবহিত করা হয়। এ লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের গৃহীত নানা কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরা হয়।

উপস্থাপিত প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে বিশ্বের ১৫টি দেশের ২৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের দাম্মাম, জেদ্দা, রিয়াদ ও মদিনা; সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি; ভারতের দিল্লি ও চেন্নাই; যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টারসহ ওমান, কুয়েত, কাতার, ইতালি, কানাডা, নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন ও জাপানের বিভিন্ন গন্তব্য।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে নিজস্ব ১৯টি উড়োজাহাজসহ সর্বমোট ২১টি উড়োজাহাজ কার্যকর রয়েছে।

বিমানবহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মালদ্বীপের মালে, চীনের কুনমিং ও উহান, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে নতুন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনে স্থগিত থাকা ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেবিচক ক্যাটাগরি-১ স্বীকৃতি অর্জনের সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি এবং এয়ারবাসের কাছ থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দেশের অর্থনীতিতে পর্যটনের অংশীদারত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ পরিকল্পনা বৈঠকে পেশ করা হয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান ছিল ৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এই অবদান ৬ শতাংশে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশে উন্নীত করার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

খাতটির বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, বার্ষিক বাজেটের কার্যকর ব্যবহার ও বরাদ্দ বৃদ্ধি, আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং আধুনিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নীতিনির্ধারণে পর্যটন খাতকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া মন্ত্রণালয়ের চলমান সব উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যপদের বিষয়ে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। বিশেষ করে শূন্যপদগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পূরণের তাগিদ দেওয়া হয়।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী অ্যাভিয়েশন অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে অংশ নেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ কমিটির অন্যান্য সংসদ সদস্যবৃন্দ।