অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১০:৪০ এএম
রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আহ্বানে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এই আকস্মিক কর্মসূচির ফলে সাজেকে যাতায়াতকারী ভ্রমণপিপাসুদের যাত্রা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পর্যটনকেন্দ্রে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সকাল থেকেই সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান নেন অবরোধকারীরা। পিকেটিংয়ের কারণে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালাগামী সব ধরনের যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
এর আগে শনিবার বিকেলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ব্যবহার করে একটি সশস্ত্র দল সাজেক এলাকায় ধারাবাহিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়। জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা জানান, জেএসএস নামধারী সন্ত্রাসীদের অব্যাহত উৎপাতের মুখে তারা এই অবরোধের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। সরকার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
এদিকে হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পর্যটকেরা।
সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত জানান, শনিবার সরকারি নিরাপত্তা বহরের সঙ্গে ছোট-বড় গাড়ি ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে মোট ৯০টি যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করে। এসব গাড়িতে করে প্রায় ৯০০ জনের বেশি পর্যটক সেখানে পৌঁছান।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, অবরোধ পরিস্থিতির কারণে আগে যেভাবে দুই দফায় নিরাপত্তা এসকর্ট চলাচল করত, তা এবার সম্ভব নাও হতে পারে। তবে দুপুর দুইটায় একবার নিরাপত্তা এসকর্ট চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বহরের মাধ্যমে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা এবং নতুন করে পর্যটকদের প্রবেশের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে তিনি প্রত্যাশা জানান।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দুর্গম পাহাড়ে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তাঁর মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন