রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,
জলবায়ু ও এআই

২১০০ সালের আগেই পারমাণবিক যুদ্ধ ও এআইয়ের কারণে মানবজাতি বিলুপ্তির আশঙ্কা: ল্যানসেট

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

২১০০ সালের আগেই পারমাণবিক যুদ্ধ ও এআইয়ের কারণে মানবজাতি বিলুপ্তির আশঙ্কা: ল্যানসেট

পারমাণবিক সংঘাত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে ২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্বনামধন্য চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটের একটি বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়ন.

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৭৫ বছরে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক যুদ্ধ, এআই ব্যবহার করে প্রাণঘাতী জৈব অস্ত্র তৈরি এবং ভয়াবহ জলবায়ু সংকট. এছাড়া শিশুদের অপুষ্টি, বায়ুদূষণ ও ধনী দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সহায়তা কমিয়ে দেওয়াও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে.

দ্য ল্যানসেট কমিশন অন টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি গ্লোবাল থ্রেটস টু হেলথের এই মূল্যায়নে মানবস্বাস্থ্যের জন্য আগামী ৭৫ বছরের মোট ১৭টি বড় হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে. বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঝুঁকি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত. তাই কোনো একটি সমস্যাকে আলাদাভাবে বিবেচনা না করে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে. তবে তারা আশ্বস্ত করেছেন যে প্রতিটি ঝুঁকি মোকাবিলার বাস্তবসম্মত পথ এখনও খোলা রয়েছে.

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের পরিচালক এবং কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ক্রিস্টোফার মারে বলেন, আজ বিশ্বনেতারা যেসব সিদ্ধান্ত নেবেন, পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ভবিষ্যৎ ঠিক সেগুলোর ওপরই নির্ভর করবে.

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষতিকর ব্যবহার এবং পারমাণবিক সংঘাত মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে. পারমাণবিক যুদ্ধের ফলে বিপুল পরিমাণ কণা বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ছড়িয়ে সূর্যের আলো আটকে দিতে পারে, যার ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ও কৃষি উৎপাদনে ধস নেমে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে. অন্যদিকে, এআইয়ের সাহায্যে তৈরি প্রাণঘাতী জৈব অস্ত্রও মহাপ্রলয়ের সমান ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে.

পারমাণবিক যুদ্ধ ও এআইয়ের বাইরেও আরও ১৫টি গুরুতর বিপর্যয়ের ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে. এর মধ্যে রয়েছে বায়ুদূষণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, শিশুদের অপুষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয়, প্রচলিত যুদ্ধ ও সংঘাত, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসহায়তা হ্রাস, অতিরিক্ত মদ্যপান, উচ্চ রক্তচাপ, আয়বৈষম্য, শিক্ষার নিম্নমান, প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভূত মহামারি, স্থূলতা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ধূমপান এবং অস্বাস্থ্যকর বার্ধক্য.

জলবায়ু উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে বিপুলসংখ্যক মানুষের সুস্থ জীবন রক্ষা করা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে জোরালোভাবে বলা হয়েছে. বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরিবর্তে ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা গেলে প্রায় ১৮৯ কোটি স্বাস্থ্যকর জীবনবর্ষ হারানো ঠেকানো সম্ভব হতে পারে.

এদিকে ধনী দেশগুলোর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহায়তা কমানো নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিশন. যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি বড় দাতা দেশ বিদেশে সহায়তা খাতে ব্যয় কমানোর ঘোষণা দেওয়ায় সাহারা-নিম্ন আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোসহ বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে.

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আয়ের অঞ্চলে স্থূলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির মতো সমস্যাগুলো বড় ঝুঁকি হলেও নিম্ন আয়ের অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগের ঘাটতি ও অপুষ্টি প্রধান সংকট. ফলে অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা জরুরি. ভয় দেখানো নয়, বরং আগাম প্রস্তুতি ও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এসব বৈশ্বিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব বলে মত দিয়েছেন গবেষকরা.