অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্ট চেনা, বোঝা এবং এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জনপ্রিয় সংক্ষিপ্ত ভিডিও বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম ‘টিকটক’। এআই সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, সঠিক তথ্য সরবরাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্প্যাম কনটেন্ট কার্যকরভাবে শনাক্ত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক জোট ‘কোয়ালিশন ফর কনটেন্ট প্রোভেন্যান্স অ্যান্ড অথেন্টিসিটি’ বা সিটুপিএ-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে সংস্থাটি।
সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় নিজেদের অ্যাপ্লিকেশনে নতুন ফিচারযুক্ত একটি বিশেষ লার্নিং হাব বা শিখন কেন্দ্র উন্মোচন করেছে টিকটক। এর মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট নির্মাতাদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি কনটেন্টের প্রকৃতি ও উৎস সম্পর্কে অনেক বেশি স্বচ্ছ ধারণা পাবেন।
যেসব ব্যবহারকারী বা পেজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে স্প্যাম বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করছে, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলো শনাক্ত করতে বর্তমানে পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে যেসব কনটেন্ট মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা, নিরাপত্তা কিংবা মানসিক সুস্থতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, সেগুলোর অপব্যবহার রোধে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এআই-নির্ভর কনটেন্টে বিশ্বাসযোগ্যতা সুসংহত করতে টিকটক এবার সিটুপিএ জোটের নীতিনির্ধারণী স্টিয়ারিং কমিটিতেও সরাসরি যুক্ত হচ্ছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যামলি এবং এআই বিশেষজ্ঞ হেনরি আজদারের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে একটি সমন্বিত নতুন নির্দেশিকা তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আধুনিক টুলগুলোর নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
টিকটকের এই নতুন ইন-অ্যাপ এআই হাব বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সব দেশের সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা অ্যাপের ভেতর থেকেই সরাসরি এআই সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বিভিন্ন সহায়ক উৎসে প্রবেশ করতে পারছেন।
অ্যাপ্লিকেশনের সার্চবারে গিয়ে এআই সম্পর্কিত যেকোনো শব্দ অনুসন্ধান করলেই ব্যবহারকারীরা ফলাফলের শুরুতেই এআই হাবের নির্দেশনা দেখতে পাবেন। এখানে এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্তের কৌশল এবং কীভাবে এটি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়, তার বিশদ বিবরণ রয়েছে।
ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়াতে ২০২৫ সাল থেকে ‘নোফিল্টার’ এবং ‘রাসবেরি পাই ফাউন্ডেশন’-এর মতো শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ সংগঠনের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে টিকটক। এ পর্যন্ত এই বিশেষ সচেতনতামূলক প্রকল্পে প্রতিষ্ঠানটি চার মিলিয়ন বা প্রায় ৪০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি আর্থিক বিনিয়োগ করেছে।
প্ল্যাটফর্মে যেকোনো ধরনের স্প্যাম নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করা ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো নিয়মিত মুছে ফেলছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে আট কোটি ৬০ লাখের বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে অপসারণ করেছে টিকটক কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন