অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ট্যাব কিংবা টিভি ডিজিটাল স্ক্রিন এখন দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ সবকিছুতেই দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা ও চোখে ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শুধু চোখের যত্ন নয়, প্রয়োজন স্ক্রিন ব্যবহারের সময়ও নিয়ন্ত্রণ করা।
স্ক্রিন টাইম কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করা।
বারবার মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়া বা অ্যাপের নোটিফিকেশন এলে অজান্তেই ফোন হাতে চলে আসে। প্রয়োজনীয় কয়েকটি অ্যাপ ছাড়া বাকিগুলোর নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিলে ফোন দেখার প্রবণতা অনেকটাই কমতে পারে।
দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়কে স্ক্রিন-ফ্রি হিসেবে রাখুন।
যেমন খাওয়ার সময়, ঘুমানোর আগে কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোন দূরে রাখতে পারেন। রাতে বিছানায় যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ভিডিও দেখার অভ্যাস থাকলে সেটি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন।
একটানা কম্পিউটার বা ফোনের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিয়মিত বিরতি নেওয়া জরুরি।
এ ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন। অর্থাৎ, প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকান। এতে একটানা কাছের জিনিস দেখার চাপ থেকে চোখ কিছুটা বিশ্রাম পায়।
সব কাজের জন্য স্ক্রিনের প্রয়োজন হয় না।
গান, পডকাস্ট বা অডিওবুক শোনার ক্ষেত্রে ফোনের স্ক্রিন বন্ধ করে রাখতে পারেন। কোনো লেখা বা তথ্য পড়ার পরিবর্তে সম্ভব হলে অডিও সংস্করণ ব্যবহার করাও স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় কমানোর একটি উপায়।
স্ক্রিন চোখের খুব কাছে রাখবেন না।
কম্পিউটার ব্যবহারের সময় মনিটর এমন দূরত্বে রাখুন, যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে দেখা যায় এবং ঘাড় বা চোখে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। ঘরের আলো ও স্ক্রিনের উজ্জ্বলতার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য থাকলেও চোখে অস্বস্তি হতে পারে। তাই পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ঠিক করুন।
রাতে দীর্ঘ সময় ফোন বা ট্যাব ব্যবহার করার বদলে বই পড়া, পরিবারের সঙ্গে কথা বলা কিংবা হালকা কোনো কাজের অভ্যাস করতে পারেন।
বিশেষ করে ঘুমের ঠিক আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো ভালো ঘুমের রুটিন তৈরিতেও সহায়ক হতে পারে। শিশুদের হাতে দীর্ঘ সময় ফোন বা ট্যাব দিয়ে রাখার অভ্যাস না করে বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা দরকার।
পড়াশোনার প্রয়োজনীয় স্ক্রিন ব্যবহারের পাশাপাশি বাইরে খেলাধুলা ও অন্য কাজে সময় দেওয়ার সুযোগ তৈরি করুন।
তবে চোখে নিয়মিত ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী ঝাপসা দেখা, অতিরিক্ত শুষ্কতা বা অন্য কোনো সমস্যা হলে শুধু স্ক্রিন টাইম কমিয়ে বসে না থেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন