অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভয়াবহ ঝুঁকি এবং এর অনিয়ন্ত্রিত প্রসার মানবসভ্যতার জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন যে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে কোটি কোটি মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো শোনাতলেও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার যে বাস্তবে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক গবেষক ও প্রযুক্তিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা প্রতিবেদন ২০২৬-এ বলা হয়েছে, এআই মডেলগুলোর স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতা এবং তথ্যের মারপ্যাঁচ মানব সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এমনকি বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রশাসন এবং সামরিক কৌশলেও এই প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ওপেন এআই, গুগল ডিপমাইন্ড এবং অ্যানথ্রপিক-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরাও অতীতে এআই থেকে মানব বিলুপ্তির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এর কঠোর নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু ভুল তথ্য বা ডিপফেক ভিডিও তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।
এটি এখন সরাসরি ব্যাংক জালিয়াতি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করা, এবং বিভিন্ন দেশের সাইবার অবকাঠামোতে অনধিকার প্রবেশের মতো গুরুতর অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্লোভাকিয়া নির্বাচন, বাংলাদেশ, তাইওয়ান, মলদোভা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেনের ভুয়া ভয়েস ক্লোন তৈরি করে নির্বাচন প্রভাবিত করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা এর প্রমাণ দেয়। এ ছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর কাছে এআই সম্পর্কিত হাজার হাজার প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আটশো তিরানব্বই মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা বিভাগগুলোতেও এখন অত্যন্ত উন্নত এআই মডেল ব্যবহার করা হচ্ছে।
পেন্টাগনসহ বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী কৌশলগত নজরদারি এবং অপারেশনাল সিমুলেশনে এআই-এর সহায়তা নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনের সতর্কতা অনুযায়ী, কোনো কারণে এআই সিস্টেমে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ইনপুট হলে এবং তার ওপর ভিত্তি করে সামরিক বা কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা গোটা মানবজাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিল গেটস ও শীর্ষ গবেষকদের মতে, মহামারি বা পারমাণবিক যুদ্ধের চেয়েও এআই-এর এই সুপ্ত ও স্বয়ংক্রিয় ধ্বংসক্ষমতা আগামী দিনে মানবজাতির অস্তিত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন