রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

স্টারলিংকের মোবাইল সেবা চালুর সহজ নিয়ম, নেটওয়ার্ক ছাড়াই মিলবে জরুরি সংযোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১১:২১ পিএম

স্টারলিংকের মোবাইল সেবা চালুর সহজ নিয়ম, নেটওয়ার্ক ছাড়াই মিলবে জরুরি সংযোগ

প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজ এলাকা শেষ হয়ে গেলেও এবার সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে জরুরি যোগাযোগ বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের বেসরকারি মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে।

এর ফলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, দূরবর্তী উপকূল, গভীর সমুদ্র কিংবা সাধারণ নেটওয়ার্কবিহীন যেকোনো প্রান্ত থেকেও মোবাইল ফোনে সীমিত পরিসরে বার্তা আদান-প্রদান ও ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার পথ উন্মোচিত হলো।

সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য গ্রাহককে আলাদা কোনো ব্যয়বহুল স্যাটেলাইট ফোন, বিশেষ ডিশ, বহিরাগত অ্যান্টেনা বা বাড়তি যন্ত্র কিনতে হচ্ছে না। প্রযুক্তি সমর্থন করে এমন সাধারণ ৪জি মোবাইল ফোন এবং একটি সচল বাংলালিংক সিম থাকলেই এই সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব। তবে গ্রাহকের ব্যবহৃত ফোনের কারিগরি সামঞ্জস্য এবং তার নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে সেবাটি সক্রিয় আছে কি না, তা যাচাই করে নিতে হবে।

সংযোগ চালুর জন্য ফোনে বাড়তি কোনো জটিল অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই।

বাংলালিংকের অফিশিয়াল মাইবিএল অ্যাপে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট নম্বরে স্যাটেলাইট সেবার প্রাপ্যতা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেখে নেওয়া যাবে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীকে তার ফোনের সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক সেটিংস হালনাগাদ রাখতে হবে এবং ডিভাইসে ৪জি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রাহক যখন প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক সীমার বাইরে চলে যাবেন, তখন তার উপযুক্ত হ্যান্ডসেটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করবে। এই সংযোগ সফল করার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত বা খোলা আকাশের নিচে থাকা বিশেষভাবে সহায়ক। কারণ বহুতল ভবন, সুউচ্চ পাহাড় কিংবা যেকোনো ভারী প্রতিবন্ধকতা স্যাটেলাইট সংকেতের গতিপ্রবাহে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

তবে নেটওয়ার্কের বাইরে গেলেই প্রতিবারই নিশ্চিত সংযোগ পাওয়া যাবে—এমন কোনো ধরাবাঁধা নিশ্চয়তা নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে হ্যান্ডসেটের মডেল, ওই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থানে স্যাটেলাইটের কাভারেজ ও অপারেটরের নির্ধারিত সেবার শর্তাবলির ওপর।

ব্যয় ও খরচের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে বড় ধরনের সুবিধা দিচ্ছে বাংলালিংক। সেবা চালুর প্রথম মাসে যেকোনো ধরনের ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সাথে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সুবিধা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে বাড়তি কোনো আর্থিক ব্যয় ছাড়াই এই সেবা উপভোগ করা যাবে। এর পাশাপাশি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের আওতায় ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি করে এসএমএস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য প্রচলিত দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের বিকল্প হওয়া নয়, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নেটওয়ার্কবিহীন বিপজ্জনক মুহূর্তে জরুরি জীবনরক্ষাকারী যোগাযোগ রক্ষা করা।

স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে গ্রাহক কেবল গুরুত্বপূর্ণ মেসেজিং, জরুরি অ্যাপ্লিকেশন ও অবস্থানভিত্তিক বা লোকেশন সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। প্রচলিত ৪জি বা ৫জি ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির ব্রাউজিং বা ডাউনলোড এতে পাওয়া যাবে না।

প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মতো এই ব্যবস্থায় বাড়ি বা অফিসে কোনো ডিশ অ্যান্টেনা বসানোর প্রয়োজন পড়ে না। এটি কাজ করে সরাসরি ‘ডাইরেক্ট-টু-সেল’ প্রযুক্তিতে, যেখানে হ্যান্ডসেট নিজেই সরাসরি মহাকাশের উপগ্রহের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এই সুবিধাটি কেবলমাত্র বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্যই উন্মুক্ত করা হয়েছে। দেশের অন্য কোনো অপারেটরের গ্রাহকরা এখনই এই সুবিধা পাবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

হাতে উপযুক্ত ফোন থাকা সত্ত্বেও স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক সংযোগ না পেলে প্রথমে হ্যান্ডসেটের সফটওয়্যার ও সেটিংস পরীক্ষা করতে হবে এবং মাইবিএল অ্যাপের মাধ্যমে নম্বরের যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। এরপরও জটিলতা না কাটলে বাংলালিংকের অফিশিয়াল গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করে সেবা চালুর শর্ত ও কাভারেজ নিশ্চিত হওয়াই হবে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।