অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের শুভ সূচনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে (বেরোবি) দ্বিতীয়বারের মতো মহালয়া উদযাপিত হয়েছে। সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের উদ্যোগে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, গভীর ভক্তি ও আনন্দমুখর পরিবেশে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা অর্চনা, ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন, ধুনুচি নাচ এবং বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা দিনটি পালন করেন।
ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই বিশেষ ধর্মীয় উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত ছিল ‘ওঁ তৎ সৎ—জ্ঞান, সংস্কার ও ঐক্য’। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সনাতন ধর্মের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পরিচিত করানো, ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং ক্যাম্পাসে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন সুসংহত করাই ছিল এ অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের সহায়তায় মহিষাসুরমর্দিনী ও দুর্গা দুর্গতিনাশিনী বিষয়ক দৃশ্যপট প্রদর্শন করা হয়। এসব অডিও-ভিজ্যুয়াল পরিবেশনায় দেবী দুর্গার অলৌকিক মাহাত্ম্য, সমাজে অশুভ ও অন্যায় শক্তির পতন এবং সত্য ও ন্যায়ের চূড়ান্ত বিজয়ের তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের সামনে ফুটিয়ে তোলা হয়। এর পাশাপাশি ‘মহালয়া আসলে কী?’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনা পর্বে দিনটির ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোকপাত করা হয়।
সনাতন শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুসারে, মহালয়ার মাধ্যমেই পিতৃপুরুষের বিদায়ের পর মর্ত্যলোকে দেবী দুর্গার আবাহন ঘটে। দিনটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতীক্ষার বার্তা পৌঁছে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও চণ্ডীপাঠ, দেবী দুর্গার স্তবগান ও ভক্তিমূলক বন্দনার মধ্য দিয়ে মা দুর্গার মর্ত্যে আগমনকে আনুষ্ঠানিক অর্ঘ্য নিবেদন করা হয়।
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে ছিল ভোরের চণ্ডীপাঠ ও বিশেষ মঙ্গলঘট স্থাপনপূর্বক পূজা। এরপর ধুনুচি নাচ ও ভক্তিমূলক সংগীতের অপূর্ব মেলবন্ধনে পুরো অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। পূজা ও আচারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করে। সর্বশেষ সমবেত শিক্ষার্থী ও ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির ইতি টানা হয়।
আয়োজনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ বেরোবি শাখার সভাপতি কাকলি রায় জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্য থেকেও তারা অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ক্যাম্পাসে দ্বিতীয়বারের মতো এমন বড় পরিসরে মহালয়া আয়োজন করতে পারা তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিষাসুরমর্দিনী প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শুরু করে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা ও মহাপ্রসাদ বিতরণ পর্যন্ত সব আনুষ্ঠানিকতা সফল হয়েছে। তিনি আয়োজনে সহযোগিতাকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের অগ্রিম প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানান।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শুভ কর্মকার বলেন, দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়েই সবার অন্তরে পূজার আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। মহালয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এই পুণ্যলগ্নে সবাইকে দুর্গোৎসব ১৪৩৩-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি সবার পূজা আনন্দময় ও সম্প্রীতিপূর্ণ হয়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় আচার, চিরায়ত সংস্কৃতিচর্চা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, ক্যাম্পাসে নিয়মিত মহালয়া আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্ম নিজস্ব আত্মিক শিকড়ের সন্ধান পাবে এবং সনাতন সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক রূপটি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আরও বিকশিত হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন