অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের শীর্ষ প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে হিফজুল কোরআন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের কৃতী শিক্ষার্থী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা। তিনি রাজধানীর মিরপুর এক নম্বরে অবস্থিত মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামীর ছাত্র।
বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধিদের প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত পর্বে স্থান পায় ৩৮টি দেশের শীর্ষ প্রতিযোগীরা। তাদের সাথে তীব্র মেধার লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে মর্যাদার সাথে তুলে ধরেছেন এই কিশোর হাফেজ।
গত ৬ অক্টোবর এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
টানা পাঁচ দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে শনিবার (১০ অক্টোবর) কুয়ালালামপুরে এক বর্ণাঢ্য সমাপনী ও আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্তরের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক চিন্তাবিদদের উপস্থিতিতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান বিজয়ী হাফেজ হিরার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথম স্থান অর্জনের গৌরবময় স্বীকৃতি হিসেবে হিরা পেয়েছেন নগদ ৪০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত। এর পাশাপাশি তাকে একটি সম্মাননা ট্রফি, পাঁচ হাজার রিঙ্গিত সমমূল্যের ওমরাহ অথবা মুসলিম পর্যটন প্যাকেজ এবং তিন হাজার রিঙ্গিত মূল্যের একটি খাঁটি স্বর্ণের বার উপহার দেওয়া হয়েছে।
হাফেজ হিরার এই অবিস্মরণীয় বিজয়ে দেশের ইসলামিক অঙ্গনে আনন্দের বন্যা বইছে।
এর আগেও এই একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক অঙ্গনে লাল-সবুজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির কৃতী শিক্ষার্থী হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম, মুয়াজ মাহমুদ, আনাস মাহফুজ ও সাদ নূর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথম স্থান অধিকারসহ অনন্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন।
২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশের অন্যতম সেরা মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, তুরস্ক ও কুয়েতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক নজর কাড়ে। এছাড়া কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষাতেও প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে অভাবনীয় ফলাফল অর্জন করে আসছে। এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন