অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১১:১০ এএম
বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া আজ শনিবার। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচিত হলো দেবীপক্ষ। শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমনী আবাহন সনাতন ঐতিহ্যে মহালয়া হিসেবে পরিচিত। এই চণ্ডীতেই রয়েছে দেবী দুর্গার সৃষ্টির পটভূমি ও দেবীর স্তুতি-প্রশস্তি। একই সঙ্গে পিতৃপক্ষের সমাপ্তিতে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
মহালয়া দুর্গোৎসবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তিথি। শাস্ত্র মতে, এই দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। পুরাণ অনুযায়ী, ব্রহ্মার বর পেয়ে অসুররাজ মহিষাসুর এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন যে দেবতারাও তাকে পরাজিত করতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত তেজ ও শক্তি থেকে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। দেবতাদের প্রদান করা বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং তাকে বধ করেন।
মহালয়ার ভোরে মহালয়া চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে আবাহন জানানো হয়। এ উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে বিশেষ পূজা, ঘট স্থাপন ও চণ্ডীপাঠের আয়োজন করা হয়েছে। ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন নদীঘাট ও জলাশয়ে ভক্তরা পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণ আচার সম্পন্ন করেন।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষে প্রয়াত আত্মীয়স্বজন ও পূর্বপুরুষেরা মর্ত্যে আগমন করেন। তাদের আত্মার শান্তি কামনায় জল, তিল ও অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণ করা হয়। মহালয়া তিথিতে এই বিশেষ আচার পালনের মাধ্যমে ভক্তরা পূর্বপুরুষদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং দেবীর আগমনী বার্তা উদযাপন করেন।
আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসব। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন হবে নৌকায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন