শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,
শারদীয় দুর্গোৎসব

মহালয়া উদযাপনে শুরু হলো দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

মহালয়া উদযাপনে শুরু হলো দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা বহনকারী শুভ তিথি মহালয়া ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই চণ্ডীপাঠের সুরে মর্ত্যলোকে দেবী দুর্গার আবাহন জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে সূচনা হলো দেবীপক্ষের। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির এবং উত্তরা সার্বজনীন মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এই উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

ভক্তরা সকালে পূর্বপুরুষদের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনায় তিল-তর্পণ সম্পন্ন করেন। এরপর ঘট স্থাপন ও বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে শুরু হয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। পুরোহিতদের বস্ত্র দান এবং পূজার মাধ্যমে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পুরাণমতে, এই শুভ তিথিতেই কৈলাস ছেড়ে মর্ত্যলোকে পিত্রালয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন দেবী দুর্গা।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সেখানে অতিথিরা মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করেন। এরপর চণ্ডীপাঠ, ভক্তিমূলক সংগীত ও নৃত্যের সমন্বয়ে দেবীর স্তুতি তুলে ধরা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটক অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসবেন এবং ফিরে যাবেন নৌকায় চড়ে।

অন্যদিকে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

সকাল ৬টার দিকে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে মাহ্দী আমিন বলেন, সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর কোনো কৃত্রিম বিভাজন না রেখে সবার একক পরিচয় হবে বাংলাদেশি—এমন একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণই সরকারের লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি নাগরিক যেন রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রশাসনের কাছ থেকে সমান অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়।

মহালয়ার ভোরে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সম্প্রচার শোনার মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু হয়।

পঞ্জিকা অনুসারে, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরবর্তীতে মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমী পালন শেষে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এই শারদীয় উৎসব।