শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,
শারদীয় দুর্গোৎসব

শুভ মহালয়া আজ: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবীপক্ষের আবাহন ও তর্পণ শুরু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

শুভ মহালয়া আজ: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবীপক্ষের আবাহন ও তর্পণ শুরু

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্য সূচনায় আজ শুভ মহালয়া। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চণ্ডীপাঠের পুণ্য ধ্বনিতে মর্ত্যলোকে দেবীর আবাহন জানানো হয়। এর মধ্য দিয়েই মূলত শুরু হলো দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা।

মহালয়া তিথি কেবল শারদীয়া দেবী দুর্গার বন্দনার সূচনাই নয়, এটি পরলোকগত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তিকামনায় শ্রদ্ধা নিবেদনেরও এক বিশেষ দিন। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, পক্ষকালব্যাপী চলা পিতৃপক্ষের অবসানে সূচনা ঘটে দেবীপক্ষের। এই দুই পক্ষের সন্ধিক্ষণই হলো মহালয়া তিথি। মহালয়ার অমাবস্যার বিহিত পূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা গতি পায়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, এই পবিত্র তিথিতেই অসুর শক্তি নিধনের ঐশ্বরিক দায়িত্ব পান দেবী দুর্গা।

ভোরের আলোয় শেষ হয় পিতৃপক্ষ, উদিত হয় দেবীপক্ষ।

পুরাণ মতে, দুর্গোৎসবের তিনটি প্রধান পর্যায় রয়েছে—মহালয়া, বোধন এবং সন্ধিপূজা। মহামায়া আদি ও অসীম শক্তির উৎস। অসুররাজ মহিষাসুর অমরত্বের বর পেয়ে স্বর্গ থেকে দেবতাদের বিতাড়িত করে গোটা ব্রহ্মাণ্ডের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। কোনো সাধারণ মানব বা দেবতা তাকে হত্যা করতে পারবে না—এমন বরের মুখে অসহায় দেবতারা শরণাপন্ন হন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের। তখন দেবতাদের সম্মিলিত তেজ থেকে আবির্ভূত হন অমোঘ নারীশক্তি মহামায়া। দেবতাদের দেওয়া দশটি দিব্যাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী রূপে দেবী দুর্গা টানা নয় দিন যুদ্ধ শেষে মহিষাসুরকে বধ করেন।

মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে নদীতীর ও জলাশয়ে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণে জল, তিল ও অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণ সম্পন্ন করেন ভক্তরা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষে মর্ত্যে নেমে আসা প্রয়াত আত্মারা এই তর্পণের মাধ্যমে তৃপ্ত হন এবং স্বর্গে ফিরে যান।

মহালয়া ঘিরে সারা দেশের মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে মহালয়ার ঘট স্থাপন, বিশেষ পূজা ও ভক্তিগীতি পরিবেশিত হচ্ছে। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটবে। দেশের প্রতিটি মন্দির ও পূজা কমিটির ব্যবস্থাপনায় নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে এই উৎসব। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে পাঁচ দিনব্যাপী এই শারদীয় মহোৎসবের।