বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
মানব সৃষ্টি

যে কারণে মানুষ সৃষ্টির সময় মাটি দিতে রাজি হয়নি জমিন এবং কেঁদে উঠেছিল পৃথিবী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

যে কারণে মানুষ সৃষ্টির সময় মাটি দিতে রাজি হয়নি জমিন এবং কেঁদে উঠেছিল পৃথিবী

মহাবিশ্বে তখন মানুষের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। ঠিক সেই মুহূর্তে মহান আল্লাহ তাআলা মাটি দিয়ে মানুষ সৃষ্টির ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। মানব সৃষ্টির সেই শিহরণ জাগানো আদি ইতিহাসে লুকিয়ে আছে মানুষের গায়ের রঙের বৈচিত্র্য এবং মানবস্বভাবের এক অদ্ভুত তাড়াহুড়ার প্রবণতা।

শুরুতে আল্লাহ তাআলা হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দেন পৃথিবী থেকে এক মুষ্টি মাটি সংগ্রহ করে নিয়ে আসার জন্য। জিব্রাইল আলাইহিস সালাম যখন পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন জমিন এক অদ্ভুত আচরণ করে। পৃথিবী আর্তনাদ করে জানায়, যদি তার মধ্য থেকে মাটি তুলে নেওয়া হয়, তবে তার অঙ্গহানি ঘটবে। এ সময় জমিন আল্লাহর দোহাই দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করে। আল্লাহর নামের দোহাই শোনার পর জিব্রাইল আলাইহিস সালাম মাটি না নিয়েই খালি হাতে ফিরে আসেন।

এরপর আল্লাহ তাআলা পাঠান হযরত মিকাইল আলাইহিস সালামকে। কিন্তু মাটির সেই করুণ আর্তনাদ ও আল্লাহর দোহাই শুনে তিনিও মাটি সংগ্রহ না করেই ফিরে যান। সবশেষে আল্লাহ তাআলা দায়িত্ব দেন হযরত আজরাইল আলাইহিস সালামকে। মাটি যখন আবারও আল্লাহর দোহাই দিয়ে মুক্তি চাইতে শুরু করে, তখন আজরাইল আলাইহিস সালাম দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে তিনি সরাসরি আল্লাহর আদেশ পালন করতে এসেছেন। আল্লাহর নির্দেশের সামনে কোনো কান্নার মূল্য নেই উল্লেখ করে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাদা, কালো, লাল ও ধূষর রঙের মাটি সংগ্রহ করে নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত সেই বৈচিত্র্যময় মাটির মিশ্রণের কারণেই আজকের মানবজাতিতে এত বৈচিত্র্য দেখা যায়—কেউ ফর্সা, কেউ কালো, আবার কেউ তামাটে বা শ্যামবর্ণের। মাটি সংগ্রহের পর আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আলাইহিস সালামের অবয়ব তৈরি করে রাখেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ইবলিশ শিতান সেই নিথর দেহের চারপাশে ঘুরত এবং চরম হিংসায় জ্বলত। সে মাটির দেহে আঘাত করলে তা থেকে ঠনঠনে পোড়া মাটির মতো শব্দ আসত। সে আশপাশের ফেরেশতাদের বলত যে এই ফাঁপা বস্তুটিকে সে ধ্বংস করে ছাড়বে।

অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হয়, যখন আল্লাহ তাআলা সেই নিথর দেহে রুহ বা প্রাণ ফুঁকে দেন। রুহ যখন মাথা পর্যন্ত পৌঁছায়, তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম প্রথম হাঁচি দেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে আলহামদুলিল্লাহ বলতে শেখানো হয়। এরপর রুহ যখন চোখে পৌঁছায়, তিনি জান্নাতের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন। কিন্তু রুহ যখন পেটে পৌঁছায়, তখন এক বিচিত্র ঘটনার সৃষ্টি হয়। জান্নাতের সুস্বাদু ফল দেখে তিনি এতটাই ক্ষুধার্থ হয়ে পড়েন যে পা পর্যন্ত রুহ পৌঁছানোর আগেই তিনি ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে ফলের দিকে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পবিত্র কোরআনে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে যে সৃষ্টিগতভাবেই মানুষ তাড়াহুড়াপ্রবণ। মানুষ আজ তার সেই আদি পিতার স্বভাবই বয়ে বেড়াচ্ছে। ব্যবসায় দ্রুত ধনী হওয়া কিংবা চাকরিতে রাতারাতি পদোন্নতির প্রত্যাশা—সব ক্ষেত্রেই মানুষের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত তাড়াহুড়া দেখা যায়। তবে মানব সৃষ্টির এই ইতিহাস একটি বড় শিক্ষা দেয় যে তাড়াহুড়া নয়, বরং ধৈর্যই মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের আসল চাবিকাঠি।