শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১১:১৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরিডা উপকূলে আছড়ে পড়েছে চলতি আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইসাইয়াস’। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ডেস্টিন শহরের নিকটবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়টি সরাসরি আঘাত হানে। আঘাত হানার মুহূর্তে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০৫ মাইল।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র জানিয়েছে, উপকূলে প্রবেশের সময় এটি দ্বিতীয় শ্রেণির শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে তাণ্ডব শুরু করে। এর আগে শুক্রবার দিনের শুরুর দিকে ইসাইয়াস শক্তি সঞ্চয় করে তৃতীয় শ্রেণির একটি বড় ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছিল। তবে মূল ভূখণ্ডে আছড়ে পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে এর শক্তি কিছুটা হ্রাস পেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে নেমে আসে। শক্তি কিছুটা কমলেও বিপজ্জনক আবহাওয়া, আকস্মিক বন্যা এবং প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাসের তীব্র শঙ্কা জারি রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টি মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলরেখার দিকে অগ্রসর হওয়ার কারণে মিসিসিপি নদীর মোহনা থেকে ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। ধ্বংসাত্মক বাতাস ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে যেকোনো মুহূর্তে উপকূলীয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই বিস্তীর্ণ উপকূলীয় জনপদে ঝড়ের বৈরী প্রভাব স্পষ্ট হতে থাকে। পর্যটকদের প্রিয় সমুদ্রসৈকতভিত্তিক শহরগুলো দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায় এবং এলাকাগুলোতে এক অস্বাভাবিক নীরবতা নেমে আসে। উদ্ভূত দুর্যোগময় পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে ফ্লোরিডা, আলাবামা এবং জর্জিয়া—এই তিন অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসন।

আবহাওয়া পূর্বাভাসের তথ্য বলছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতের মধ্যে ঝড়টি আরও শক্তি হারিয়ে ক্রান্তীয় বৈশিষ্ট্যহীন সাধারণ ঝড়ে পরিণত হতে পারে। শক্তি কমলেও এর প্রভাবে ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে সর্বোচ্চ ৯ ফুট এবং পার্শ্ববর্তী আলাবামা উপকূলে প্রায় ৬ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি মৌসুমে নাম দেওয়া ঝড়ের তালিকায় ইসাইয়াস নবম হলেও এটিই এই বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় এবং একমাত্র বড় ঘূর্ণিঝড়। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পরিভাষায় তৃতীয় বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ঝড়কে বড় ঘূর্ণিঝড় হিসেবে গণ্য করা হয়। শক্তিশালী আবহাওয়াগত প্রভাব এল নিনোর কারণে চলতি আটলান্টিক মৌসুমটি অন্যান্য বছরের তুলনায় ঐতিহাসিকভাবে বেশ শান্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। সেই শান্ত মৌসুমের মাঝেই ইসাইয়াসের এমন বিধ্বংসী উপস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।