বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১১:২৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ সীমিত করার অংশ হিসেবে নতুন আর্থিক বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। সামগ্রিক অভিবাসন প্রক্রিয়া কঠোর করার ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। নতুন প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি বা শেষে দেশটিতে হাতে-কলমে কাজ করতে চায়, তবে তাদের প্রশিক্ষণ ফি বাবদ অন্তত ৭০ হাজার ডলার গুনতে হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এফ-১ ভিসা নিয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ বা ওপিটি সুবিধার জন্য কোনো অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ৭০ হাজার ডলার পরিশোধ করতে হবে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত কোনো কাজের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হলে আরও ৩০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে। বর্তমানে এই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধার আওতায় শিক্ষার্থীদের আবেদন ফি বাবদ দিতে হয় প্রায় ৫০০ ডলার।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, এই ফি বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধ করা, পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

ওপিটি সুবিধা মূলত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অবলম্বন।

এই কাঠামোর আওতায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চলাকালীন সময়ে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা এবং ডিগ্রি অর্জনের পর নির্দিষ্ট মেয়াদে পূর্ণকালীন কাজের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। এছাড়া বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনকারীদের জন্য অতিরিক্ত সময় কাজ করার বিশেষ সুবিধাও বহাল রয়েছে।

অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থীর জন্য এই ওপিটি প্রক্রিয়াটি পরবর্তীতে দক্ষ কর্মী হিসেবে এইচ-১বি ভিসা পাওয়ার প্রধান সোপান হিসেবে কাজ করে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতিমধ্যে এই এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রেও নানামুখী শর্ত ও অতিরিক্ত ফি ধার্য করেছে।

প্রস্তাবিত এই কঠোর নিয়ম ঘিরে দেশটিতে ইতিমধ্যে তীব্র আইনি লড়াই ও বিরোধিতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই খসড়া বিধিমালার ওপর সাধারণ নাগরিকদের মতামত দেওয়ার জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই গণশুনানি ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর নতুন নিয়মটি কার্যকর করতে আরও ৬০ দিন সময় দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।