শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে কড়াকড়ি: মেট্রো স্টেশন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে কড়াকড়ি: মেট্রো স্টেশন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলে রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে পুলিশ প্রশাসন। শনিবারের এই পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি প্রতিহত করতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ফটক পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সমাবেশস্থলের আশপাশে সাময়িকভাবে মুঠোফোনের ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) নির্বাচনী সুবিধা পাইয়ে দিতে নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে ভোটার তালিকা সংশোধন করছে। এ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবি করছেন। তবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে।

‍‍`গণতন্ত্র বাঁচাও‍‍` স্লোগানকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বেশ কয়েকটি ছাত্রসংগঠন। আয়োজকদের পরিকল্পনা ছিল শনিবার সকাল ১০টায় দিল্লির কেন্দ্রস্থলে সমবেত হওয়ার। কিন্তু দিল্লি পুলিশ এই কর্মসূচির কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়নি।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে স্বয়ং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেও গুরুতর মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এই সংশোধন প্রক্রিয়ার কারণে বিদ্যমান ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম আকস্মিকভাবে বাদ পড়েছে। দেশটির বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এর ফলে সাধারণ ও প্রকৃত ভোটারদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার হরণ হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে নাম বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক ক্রমাগত বাড়ছে।

দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা মেনে আবেদন না করা এবং এর আগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেওয়া প্রশাসনিক শর্ত ভঙ্গের কারণেই শনিবারের বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাজধানীতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছেন সিজেপির নেতারা। তাদের ভাষ্য, নাগরিক হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো তাদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার এবং পুলিশের অনুমতি না থাকলেও তারা রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দিল্লিতে ২৩ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জনসমাগম ঠেকাতে নেওয়া হয় সমন্বিত পদক্ষেপ। শুক্রবার রাত থেকেই দূরপাল্লার বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিলের তথ্য মেলে এবং মেট্রো চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধজুড়ে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার জন্য মুঠোফোনের ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বিতর্কিত সময়ে রাজধানীর রাজপথে এই অস্থিরতা দেখা দিল। আগামী ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ভারতের উত্তর প্রদেশসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে শুরু হওয়া এই তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো রূপ নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।