শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,
দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা

দিল্লিতে সিজেপির কর্মসূচিতে পুলিশের ধরপাকড়: দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

দিল্লিতে সিজেপির কর্মসূচিতে পুলিশের ধরপাকড়: দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আটক

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ প্রশাসন। শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ ও পদযাত্রা ঘিরে পরিচালিত এই অভিযানে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং বামপন্থি শীর্ষ ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাসহ অন্তত দেড় শতাধিক নেতাকর্মী ও প্রতিবাদকারীকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশি পদক্ষেপে সেন্ট্রাল পার্ক ও সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের বাইরের চত্বরে আম আদমি পার্টির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বিক্ষোভকারীরা মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিলে পুলিশি বাধার মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একই সাথে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবিতে সরব হয় বিরোধীরা। এ দাবিতে মান্ডি হাউসের নিকটবর্তী এলাকায় যৌথ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) ও বিভিন্ন বামপন্থি রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীরা।

মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও এসআইআর প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি না থাকা, কনট প্লেসের মতো সুরক্ষিত ও বাণিজ্যিক এলাকা হওয়া এবং সেখানে বড় ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার কারণ দেখিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুরো নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ছয় হাজারেরও বেশি সদস্যকে রাজপথে মোতায়েন করা হয়েছিল।

মূল বিক্ষোভ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়ানোর আগেই কৌশলগত অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন প্রথমসারির আন্দোলনকারীকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এনসিপি-এসসিপি মুখপাত্র আনিশ গাওয়ান্ডের ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। আটকের সময় এক দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে জানান, এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে এবং তাকে মূলত প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দিল্লিতে সিজেপি এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে একই ধরনের অভিযান চালিয়েছিল প্রশাসন। যদিও সে দফায় কয়েক ঘণ্টার আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে চলমান অভিযানে আটক দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে নাকি আনুষ্ঠানিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।