শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয় মূল পরিচয় বাংলাদেশি: মাহ্দী আমিন

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১১:২২ এএম

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয় মূল পরিচয় বাংলাদেশি: মাহ্দী আমিন

সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরুর সংকীর্ণ বিভাজন ভেঙে প্রতিটি নাগরিকের প্রধান পরিচয় ‍‍`বাংলাদেশি‍‍` হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, অভিন্ন নিরাপত্তা, পূর্ণ স্বাধীনতা এবং সমান মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‍‍`মহালয়া ১৪৩৩‍‍`-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বনানী মাঠে পৌঁছালে আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন। এরপর বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শুভ মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা ও শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়; অন্ধকার দূরে ঠেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই মহোৎসবের মূল দর্শন। সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের জন্য তিনি গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

সমাবেশের ভৌগোলিক তাৎপর্য তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, "আজ আমরা এমন একটি এলাকায় সমবেত হয়েছি, যা সংসদীয় আসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এলাকা। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই মিলে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলব যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয় হবে, আর তা হলো আমরা সবাই বাংলাদেশি।"

ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য বা ভেদাভেদের শিকার হতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় অবস্থান জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি মানুষ যেন স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারেন এবং সমান মর্যাদা নিয়ে জাতীয় অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে পারেন, রাষ্ট্র সেই পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির সাথে সংগতি রেখে শারদীয় পূজার সরকারি ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে উৎসবের আনন্দ প্রতিটি মানুষের অন্তরে পূর্ণমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে।

শারদীয় দুর্গোৎসবকে বাঙালির আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির দৃঢ় বন্ধন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের মধ্যকার ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা এমন এক মানবিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।"

জনগণকে রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বর্ণনা করে মাহ্দী আমিন বলেন, জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও একতাবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই সরকারের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে যে জনগণের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক কল্যাণই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার; আর সেই দর্শনের কারণেই ঘোষিত নীতি হলো ‍‍`সবার আগে বাংলাদেশ‍‍`। তিনি সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান এবং দুর্গোৎসবের সূচনা সবার জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়।