অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভুক্তভোগীদের সময়মতো সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তিনি পরিবার ও সমাজের সার্বিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে দিবসটি পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
এ বছর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’।
বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রতিপাদ্যকে অত্যন্ত সময়োপযোগী আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বাস্তব অভিজ্ঞতা যাদের রয়েছে, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও সেবামূলক পরিকল্পনায় তাদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই এই প্রতিপাদ্যের মূল শিক্ষা।
তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা, উৎপাদনশীল কর্মক্ষমতা ও টেকসই জীবনমানের এক অবিচ্ছেদ্য ভিত্তি। বর্তমান পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক অস্থিরতা, একাকিত্ব, মাদকাসক্তি, পারিবারিক বিরোধ, কর্মক্ষেত্রের মাত্রাতিরিক্ত চাপ এবং দৈনন্দিন জীবনের জটিল প্রতিকূলতা মানুষের মনোজগতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই শারীরিক সুস্থতা রক্ষার মতোই মানসিক সুস্থতা রক্ষা করা সমানভাবে অপরিহার্য।
মানসিক সুস্থতাসম্পন্ন ও কর্মক্ষম ভবিষ্যৎ জাতি গঠনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সুনির্দিষ্ট বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিত করার কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। মানসিক সমস্যা দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন সমাজ ও পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম।
কুসংস্কার ও অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঝাড়ফুঁক বা যে কোনো ধরনের অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতির ভ্রান্ত ধারণায় না জড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞানসম্মত প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণের জন্য সচেতন হতে হবে। তিনি বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে গৃহীত সব কর্মসূচির সামগ্রিক সাফল্য কামনা করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন