অক্টোবর ৯, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর অর্থনৈতিক মন্দা এবং মারাত্মক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক এই ধাক্কা সামাল দিতে হলে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে কঠোর আইনশৃঙ্খলা এবং কার্যকর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও আলোচনা সভায় ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বর্তমানে এক চরম অনিশ্চিত ও টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। চলমান ইরান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক ধাক্কা লেগেছে এবং তীব্র আকার ধারণ করেছে জ্বালানি সংকট। বাংলাদেশ যদি সময় থাকতে এই সংবেদনশীল পরিস্থিতি কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশকে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া এই তীব্র সংকট থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে এবং চাকা সচল রাখতে হলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গনে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করতে হবে। একই সঙ্গে দেশকে যেকোনো মূল্যে সঠিক ও সুশৃঙ্খল পথে পরিচালিত করতে হবে।
দেশের রাজনৈতিক রূপান্তর ও ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই মূলত দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশস্ত পথ তৈরি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী, মুক্তিকামী জনতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফলেই এই ঐতিহাসিক রূপান্তর সম্ভব হয়েছে। তাই অর্জিত গণতন্ত্রের সুফল ধরে রাখতে হলে আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রতিটি মানুষকে এখন নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে দেশ পুনর্গঠনে আন্তরিকভাবে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কিছু ছাত্রনেতার সরাসরি সরকারে পদ গ্রহণ এবং নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন মন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব দলীয় ও ব্যক্তিপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও সামগ্রিক লক্ষ্যকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এ সময় বিগত ১৭ বছর ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির ধারাবাহিক নির্যাতন সহ্য করা ও আপসহীন আন্দোলনের অবদান তুলে ধরেন তিনি।
দেশের চলমান মাঠপর্যায়ের অস্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক অবরোধ ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা মবের মতো বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে অবিলম্বে সবাইকে সম্পূর্ণ সরে আসতে হবে। সামগ্রিক জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য প্রদান করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।
জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি রাজশাহী বিভাগের সভাপতি উজ্জল হোসেন জোবায়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বা আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল হক নির্ঝর, জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, আমরা জুলাই যোদ্ধা সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল তুহিন এবং বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান।
স্মরণসভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহীদদের পরিবারের সদস্য এবং আহত বীর যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন