অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পদত্যাগ করেছেন ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পাকনেজাদ। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রার আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এই পরিবর্তন ঘটল। দেশটির অর্থনীতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ১০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
সংকট এখন বহুমুখী। জ্বালানি আয়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি হয়েছে বিক্রি করা তেলের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায়। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল বিক্রির জন্য মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আসছিল তেহরান। সম্প্রতি একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অভিযোগ ওঠে, বিদেশে বিক্রি হওয়া তেলের প্রায় ২০০ কোটি ডলার বা দুই বিলিয়ন ডলার রাজস্ব এখনও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির কাছে পৌঁছায়নি। এই অর্থ বকেয়া থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দেশটির পার্লামেন্টের জ্বালানি কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।
তবে এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কারণে পাকনেজাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্টের দপ্তর কেবল তার ব্যক্তিগত কারণের কথাই নিশ্চিত করেছে। তেল ও গ্যাস খাতে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা নতুন ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হামিদ বোভার্দ দায়িত্ব নিচ্ছেন এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ার উপক্রম। দেশটির ভেতরের জ্বালানি পরিস্থিতি সাধারণ নাগরিকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে সরকারি ভর্তুকির অতিরিক্ত পেট্রলের দাম এক লাফে দ্বিগুণ করা হয়। এর আগেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ গাড়ির লাইন ও সরবরাহে ঘাটতির খবর আসছিল। দেশটির নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতার চেয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি আমদানির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
স্থানীয় মুদ্রার নজিরবিহীন দরপতন মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। খোলাবাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার তোমানে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মুদ্রার মান কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি এখন ১৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। নিত্যপণ্যের এই আকাশছোঁয়া দামের সাথে তাল মেলাতে পারছে না সাধারণ সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দিষ্ট বেতন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি চাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীসহ ১২টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দর আগামী ছয় মাসের জন্য নির্দিষ্ট রাখার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তবে বাজারে এই দর নিয়ন্ত্রণ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন জলসীমায় নৌ অবরোধ ও সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি খাতের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই সরবরাহ সংকটের প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন