অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
ধান ও পাটের ঐতিহ্য ছাড়িয়ে নাটরে এবার শুকনা ভুট্টা ও সাবুদানা দিয়ে তৈরি হচ্ছে অভিনব দুর্গাপ্রতিমা। স্থানীয় শস্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় উপাদান দিয়ে তৈরি এই প্রতিমাগুলো দেখতে মণ্ডপে ভিড় জমাচ্ছেন দূরদূরান্তের দর্শনার্থীরা।
নাটোর শহরের উত্তর চৌকিরপাড়ের ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী রামচন্দ্র মন্দিরে এবার ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিমাশিল্পী নীলদাস ও পূজা আয়োজক কমিটির তরুণদের যৌথ প্রচেষ্টায় মাটির প্রতিমার ওপর নিখুঁতভাবে বসানো হচ্ছে শুকনা ভুট্টার দানা। শুধু দুর্গোৎসবের দেবী নন, বরং লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ এমনকি সিংহ ও অসুরের শরীরও সাজানো হয়েছে ভুট্টার আবরণে। দূর থেকে মনে হবে সোনালী আলোয় ঝলমল করছে গোটা মণ্ডপ।
প্রতিমা তৈরির কাজে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, এই প্রতিমা তৈরিতে প্রায় একশ কেজি ভুট্টা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটা ভুট্টার দানা আলাদা করে কেটে আঠা দিয়ে একটি একটি করে বসাতে হচ্ছে। রাতের বেলাতেও কাজ চলছে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়।
নাটোরের আরেকটি মন্দিরেও দেখা মিলেছে ভিন্নধর্মী শিল্পের। সেখানে দুর্গা প্রতিমার সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হচ্ছে সাবুদানা। প্রতিমা তৈরিতে মাটির কাজ শেষ করার পর প্রায় এক মাস ধরে সাবুদানা বসানোর কাজ চলছে। এই পর্যন্ত প্রায় আশি কেজির মতো সাবু ব্যবহার করা হয়েছে এবং আরও পাঁচ কেজির মতো প্রয়োজন হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও কমিটির সবাই মিলে একসঙ্গে এই কাজ করছেন এবং চারপাশ থেকে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
নাটোরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ও মণ্ডপ সজ্জায় সৃজনশীলতার এই ধারা নতুন নয়। এর আগে ধান কিংবা সোনালী পাটের আঁশ দিয়ে প্রতিমা তৈরির প্রচলন থাকলেও এবার ভুট্টা ও সাবুদানা যুক্ত হয়েছে। বঙ্গোজল রাজবাড়িতে ভুট্টা দিয়ে প্রতিমা তৈরি হয়েছে এবং স্বপ্নঘোষপাড়াতেও সাবুর প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় শস্য ও উপকূরণেই প্রতিবার জন্ম নিচ্ছে নতুন শিল্পভাবনা।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন