অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
বাংলাদেশের স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার পথ আরও সুগম করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
রাজধানীতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক স্থাপত্য শিক্ষা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের আট মাসের কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সমস্যা সমাধানের একটি সুযোগ হিসেবে দেখে। দেশের স্থপতিরা যেন অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁদের মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারেন, সেটিই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
স্থাপত্য একটি বিশেষায়িত পেশা হিসেবে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক স্থাপনা ও মিলনায়তনগুলো সময়ের সারমর্ম, ঐতিহ্য এবং বৈশ্বিক সেরা চর্চাগুলোকে ধারণ করে। আমাদের দেশে প্রায় সাত হাজার গ্র্যাজুয়েট স্থপতি রয়েছেন এবং প্রতি বছর প্রায় এক হাজার নতুন গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছেন। এই বিশাল চাহিদার সাথে সরবরাহের যোগসূত্র স্থাপন করা সরকারের দায়িত্ব।
তরুণ স্থপতিদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চতর মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামের পথ উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমাদের স্থপতিরা দেশেই শিক্ষা লাভ করবেন, কিন্তু তাঁদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশেই বসেই বিদেশের বিভিন্ন বড় বড় নকশা ও স্থাপত্যের কাজ করবেন।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আইএবি যদি অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে, তবে বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হবে। এ সময় তিনি `ক্যানবেরা অ্যাকর্ড`-এর উপস্থিতিকে সাধুবাদ জানান এবং আইএবি, ইউজিসি ও বিএসিকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
সরকারের পক্ষ থেকে স্থাপত্য শিক্ষার প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাদান পদ্ধতি আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পাঠ্যক্রমকে আরও আধুনিক ও বাস্তবমুখী করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় লাইব্রেরি, স্টুডিও, সরঞ্জাম এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ঠিক রাখার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ কিংবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ দিতেও সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের নেওয়া নীতিসমূহের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের সামগ্রিক স্থাপত্য ও অবকাঠামোগত দৃশ্যপটে বড় ধরনের রূপান্তর আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন