সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,

নতুন যুদ্ধ হলে পুরো অঞ্চল আগুনে পুড়বে: ইরানের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

নতুন যুদ্ধ হলে পুরো অঞ্চল আগুনে পুড়বে: ইরানের হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে তার মারাত্মক প্রভাব শুধু দেশটির সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন তিনি। আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরানের সামরিক নেতৃত্ব।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ক এবং খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি উল্লেখ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক আগ্রাসনের সূচনা হলে সেই যুদ্ধের দাবানলে পুরো অঞ্চল পুড়ে ছারখার হবে। নিজ নিজ ভূখণ্ডে মার্কিন সেনাদের সামরিক ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েনের সুযোগ করে দেওয়া প্রতিবেশি দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় দীর্ঘায়িত হবে।

আবদোল্লাহির ভাষ্য অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে অতীতে চাপিয়ে দেওয়া সব সামরিক অপচেষ্টা দেশটির আত্মরক্ষা সক্ষমতা ও জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যের মুখে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব, সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করে দাবি করেন যে তেহরান যেকোনো নতুন আগ্রাসন প্রতিহত করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। এই শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক সংঘাত উসকে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী অপতৎপরতা চলছে। তার দাবি অনুযায়ী ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ও আত্মরক্ষামূলক সামরিক শক্তিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্ব যেসব অভিযোগ তুলছে, সেগুলো মূলত নতুন সংঘাত বাঁধানোর অসৎ অজুহাত মাত্র।

বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৈরী নীতির বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। আবদোল্লাহি দাবি করেন, ইরানকে সামরিক দিক থেকে দুর্বল ভেবে অতীতে যে সংঘাত বাঁধানো হয়েছিল, তাতে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর ও বিধ্বংসী পাল্টা জবাব দিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হঠকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তেহরানের বাহিনী তাৎক্ষণিক ও অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে ওই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন স্বার্থ ও স্থাপনা ইরানের পাল্টা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করে আবদোল্লাহি পুনর্ব্যক্ত করেন যে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না, বরং এসব ঘাঁটি সামগ্রিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। তিনি পুনরায় সতর্ক করে বলেন যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তার আগুন কাউকে রেহাই দেবে না।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে ভিত্তিহীন ও অসত্য মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি এবং সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পরিশেষে আবদোল্লাহি দাবি করেন, ইরান এখন সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং যেকোনো পর্যায়ের বৈরী হুমকি মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। তবে এসব বক্তব্য মূলত ইরানের সরকারি অবস্থান ও সশস্ত্র বাহিনীর নিজস্ব দাবি হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।