অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
বেসরকারি খাতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস তথা এলপিজির বারো কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রোববার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর অক্টোবরের জন্য প্রোপেন ও বিউটেনের ঘোষিত চুক্তি মূল্য বা সৌদি সিপি বৃদ্ধি পাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে এই দর সমন্বয় করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দর ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধিই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। বিইআরসি জানায়, অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন প্রোপেনের সৌদি সিপি ৬৮০ ডলার এবং বিউটেনের দর ৭৩০ ডলার নির্ধারিত হয়েছে। দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫ ধরে গড় সৌদি সিপি প্রতি টনে ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার বিবেচনা করেছে কমিশন। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে প্রোপেনের সৌদি সিপি ছিল প্রতি টন ৬২৫ ডলার এবং বিউটেনের দর ছিল ৬৬০ ডলার, যার গড় ছিল ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার।
ফলে এক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে গড় সৌদি সিপি প্রতি টনে ৬৪ দশমিক ৭৫ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি অক্টোবর মাসের মূল্য সমন্বয়ে এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া ও ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম প্রতি টনে ২৫০ ডলার ধরা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে এ খাতে প্রতি টনে ১৬০ ডলার ধরা হয়েছিল। ফলে মাসের ব্যবধানে জাহাজ ভাড়া ও ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম প্রতি টনে বেড়েছে ৯০ ডলার। তবে ডলারের বিনিময় মূল্যে সামান্য স্বস্তি এসেছে। অক্টোবর মাসের দাম নির্ধারণে প্রতি মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ১৮ পয়সা বিবেচনা করা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা।
গৃহস্থালি এলপিজির সাথে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭৩ টাকা নয় পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন। সরকারিভাবে দর বাড়ানোর পরও মাঠপর্যায়ে তীব্র সংকট কাটেনি। বরং দেশের বহু অঞ্চলে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন খাতেও। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ার প্রতিবাদে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংক রোড এলাকায় অটোরিকশা চালকরা প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাসে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, বগুড়া ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। মুন্সীগঞ্জে বারো কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। ময়মনসিংহে একই সিলিন্ডারের জন্য দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা এবং কোনো কোনো স্থানে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লায় প্লাস্টিকের সিলিন্ডার দুই হাজার ১৫০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকা এবং স্টিলের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে প্রায় এক হাজার ৯৫০ টাকায়। বগুড়াতেও নতুন দর ঘোষণার পরপরই সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো খুচরা বিক্রেতা দাম বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন।
সাধারণ পরিবারের পাশাপাশি বাণিজ্যিক গ্রাহকরাও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়েছেন। ময়মনসিংহে হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত ত্রিশ ও পঁয়তাল্লিশ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারে সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একটি মাঝারি আকারের রেস্তোরাঁয় মাসে গড়ে বিশটি বড় সিলিন্ডারের প্রয়োজন হলে প্রতিটিতে এক হাজার ২০০ টাকা বাড়তি হিসাবে মাসিক অতিরিক্ত খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৪ হাজার টাকা।
বাজারের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বরের পর আমদানিকারকরা বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহের প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডিপো থেকে সিলিন্ডার সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। তবে কৃত্রিম সংকট তৈরির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এলপিজি আমদানিকারকরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন