অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
তেলুগু চলচ্চিত্র দেবারা-র জনপ্রিয় গান চুট্টামাল্লে-তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি আপত্তিকর ও বিকৃত ভিডিও সম্প্রতি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর বলেছেন, প্রযুক্তির অপরাধমূলক অপব্যবহারের মাধ্যমে নারীকে পণ্য বানানো এবং সম্মতি ছাড়া বিকৃত কনটেন্ট ছড়ানো যৌন নিপীড়নেরই আরেকটি রূপ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জাহ্নবী কাপুর উল্লেখ করেন, চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রায় প্রতিটি নারীই এমন কোনো না কোনো ঘটনার শিকার হয়েছেন। এটি কেবল নির্দিষ্ট একটি অঙ্গনের বিষয় নয়, বরং সব ক্ষেত্রেই নারীরা এ ধরনের হয়রানির মুখে পড়ছেন। এর আগে অভিনেতা জুনিয়র এনটিআর ও চিরঞ্জীবী এই ঘটনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং অভিনেত্রী তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নারীর সম্মতি ও শারীরিক মর্যাদার প্রশ্নে জাহ্নবী কাপুর লিখেছেন, একজন নারীর শরীরের প্রতি সম্মতি, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং সম্মান পাওয়া মানবতার সবচেয়ে মৌলিক অধিকার। একজন নারী পরপর পাঁচ দিন কোনো প্রস্তাবে রাজি থাকলেও ষষ্ঠ দিনে তার অস্বীকৃতিকে মর্যাদা দিতে হবে। কোনো নারী ছোট পোশাক পরলেও তার ব্যক্তিগত স্থানের দিকে ক্যামেরা তাক করা বা আপত্তিকরভাবে তা ধারণ করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিজের শরীর নিয়ে সীমারেখা টানা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ নারীর ব্যক্তিগত বিষয়। বর্তমান বাস্তবতায় নারীদের প্রতি নিরাপত্তা ঝুঁকি বাস্তব জীবনের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে সতর্ক করেন এই অভিনেত্রী। কেবল মেয়েকে সাবধানে রাখার পরামর্শ দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। অন্যের ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘনের যে মানসিকতা সমাজে প্রচলিত, সেটির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং পুরুষদের পক্ষ থেকেই সঠিক ও ভুলের পার্থক্য তুলে ধরে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
একজন নারীকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা এবং তার শারীরিক সীমারেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন