অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:০৭ এএম
জাহ্নবী কাপুর ও জুনিয়র এনটিআর অভিনীত দেভারা পার্ট ওয়ান সিনেমার ছুট্টামালে গানের দৃশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আপত্তিকর ও বিকৃত ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতের শীর্ষ অভিনেতা চিরঞ্জীবী। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাওয়া এই গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন শিল্পা রাও এবং সুর করেছিলেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গানটির দৃশ্যে এক অভিনেত্রীর মুখ ও অবয়ব বিকৃত করে একটি নোংরা ভিডিও তৈরি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি অনলাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও ঘটনাটি ডিজিটাল মাধ্যমে নারী নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের ওপর গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অনলাইনে এমন ভিডিও ছড়ানোকে অগ্রহণযোগ্য অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন চিরঞ্জীবী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় চিরঞ্জীবী উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একজন অভিনেত্রীকে হেয় করার এই ঘটনা তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তার কথায়, এই অপরাধের নিষ্ঠুরতা সব সীমা অতিক্রম করেছে এবং কোনো সভ্য সমাজে তা মেনে নেওয়া যায় না। চিরঞ্জীবী স্পষ্ট করেন যে সংকটটি কেবল কোনো একক ব্যক্তি বা একটি নির্দিষ্ট চলচ্চিত্রের নয়। আজ অন্য কারও সঙ্গে এটি ঘটেছে, কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধ না থাকলে আগামীকাল যে কারও সঙ্গেই এমন অপরাধ ঘটতে পারে। ফলে ব্যক্তিগতভাবে কেউ ভুক্তভোগী না হলেও সাইবার জগতের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে ঘটনার শুরুতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ছবির প্রধান অভিনেতা জুনিয়র এনটিআর। তিনি একে চরম লজ্জাজনক ও ঘৃণ্য কাজ হিসেবে অভিহিত করে জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাধারণ দর্শককে এমন আপত্তিকর কনটেন্ট দেখা ও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে নতুন কঠোর আইন প্রণয়নের তাগিদ দেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই বিকৃতি ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন চিরঞ্জীবী। তিনি তেলেগু ফিল্ম চেম্বার ও প্রডিউসার্স কাউন্সিলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার কথা জানান। বিশেষ করে এআইভিত্তিক হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের জরুরি মানসিক ও আইনি সহায়তা দিতে একটি বিশেষ সেল বা কমিটি গঠনের প্রস্তাব তুলতে যাচ্ছেন এই প্রবীণ অভিনেতা।
চিরঞ্জীবীর মতে, যারা এই বিকৃত কনটেন্ট তৈরি করে এবং যারা ইচ্ছাকৃতভাবে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়, উভয় পক্ষকেই সমান অপরাধী হিসেবে আইনের আওতায় আনতে হবে। সাইবার অপরাধ দমন বিভাগের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানো, দ্রুততম সময়ে আপত্তিকর কনটেন্ট নেটওয়ার্ক থেকে অপসারণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
সাধারণ মানুষের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে এই মেগাস্টার বলেন, প্রতিবাদ বা নিন্দার নাম নিয়েও যেন কেউ এই ভিডিও অনুসন্ধান, ডাউনলোড বা ভাগাভাগি না করেন। কোথাও এমন নোংরা কনটেন্ট নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তা সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটে রিপোর্ট করার পরামর্শ দেন তিনি। এই সংকট মোকাবিলায় শিল্পী, নির্মাতা, ভক্ত ও সাধারণ দর্শক সবাইকে সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন