সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,

সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ গলে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধাক্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম

সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ গলে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধাক্কা

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো নজিরবিহীন দ্রুততায় গলে বিলীন হচ্ছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই দেশটির হিমবাহগুলোর ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বরফ সম্পূর্ণ গলে গেছে। গ্লেসিয়ার মনিটরিং সুইজারল্যান্ড, সুইস একাডেমি অব সায়েন্সেস এবং সুইস কমিশন ফর ক্রায়োস্ফিয়ার অবজারভেশনের যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, লাগাতার বরফ গলনের ধারাবাহিকতায় ২০২১ সাল থেকে মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের মোট হিমবাহের ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ বরফ চিরতরে হারিয়ে গেছে।

মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে সুইস আল্পসের হিমবাহের আয়তন প্রায় এক পঞ্চমাংশ হ্রাস পেয়েছে। গবেষকদের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি গলে নদীতে নেমে গেছে। দেশটির প্রতিটি পরিবার এক বছরে যে পরিমাণ খাবার পানি ব্যবহার করে, এই তিন মাসে গলে যাওয়া পানির পরিমাণ তার চার গুণেরও বেশি। শীতকালে তুলনামূলক কম তুষারপাত এবং গ্রীষ্মকালে লাগাতার রেকর্ড তাপমাত্রার যৌথ আঘাতেই বরফ গলনের এমন অস্বাভাবিক গতি তৈরি হয়েছে। 

বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের বৃহত্তম হিমবাহ আলেৎস এবং সানফ্লুরন হিমবাহে বরফের গড় পুরুত্ব ইতোমধ্যে ৪ মিটারেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। ইটিএইচ জুরিখের শীর্ষ হিমবিজ্ঞানী এবং এই গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক মাথিয়াস হাস পরিস্থিতিকে একটি চরম বিপর্যয়কর অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করার মতো আর কোনো ভাষা বিজ্ঞানীদের জানা নেই। ২০২২ সালটি মারাত্মক বিপর্যয়কর হলেও আগামী কয়েক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। হিমবাহের বরফ অস্বাভাবিক হারে গলে যাওয়ায় পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে মারাত্মক নেতিবাচক ধাক্কা লাগছে।

রাইন নদীসহ ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক নৌপথ আল্পস ও হিমালয়ের হিমবাহ থেকে আসা প্রবাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। গবেষণায় দেখা গেছে, হিমবাহের পানির মজুদ মাত্র ৫ শতাংশ কমে গেলেই সংলগ্ন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং পানিপ্রবাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে পার্বত্য এলাকায় ঘন ঘন প্রাকৃতিক বিপর্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, বীমা প্রিমিয়ামের হার ও সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। একই সঙ্গে চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে স্কি রিসোর্ট, আল্পাইন ট্র্যাকিং এবং শীতকালীন খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক পর্যটন শিল্প।