অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে নামমাত্র এক টাকার বিনিময়ে পাঠদান করে গাইবান্ধায় এক টাকার শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া লুৎফুর রহমানকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে সরকার। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের ১০২ জন নির্বাচিত গুণী শিক্ষকের সঙ্গে তাকে এই অনন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে লুৎফুর রহমানের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে দুই লাখ টাকা, একটি করে স্মারক ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ১৯৭৪ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছেন লুৎফুর রহমান। চরম দারিদ্র্যের কারণে যেসব শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো, তাদের অক্ষরজ্ঞান ও মৌলিক শিক্ষাদানের লক্ষ্যেই তিনি নিজ উদ্যোগে এই বিকল্প শিক্ষাসেবা চালু করেন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষক হিসেবে যুক্ত না থেকেও তিনি টানা ৫২ বছর ধরে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে আসছেন। তার এই দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থী বিনা বাধায় প্রাথমিক পাঠ শেষ করার সুযোগ পেয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে পাঠদানের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ কেবল স্বল্প খরচে শিক্ষার নজির নয়, বরং অনগ্রসর শিশুদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি বিরল মানবিক দৃষ্টান্ত। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আয়োজনে লুৎফুর রহমানের পাশাপাশি আরও দুজন বিশিষ্ট শিক্ষককে বিশেষ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন রমনী কান্ত পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা রমনী কান্ত বেপারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাঠদানে অনন্য ভূমিকা রাখা প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের সহকারী শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খান।
এ বছর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি, বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা, কৃষি ও প্রকৌশল শিক্ষাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ১০২ জন শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে সম্মাননা দেওয়া হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পৃথক বিচারক প্যানেল ও সার্চ কমিটি মাঠপর্যায় থেকে শিক্ষকদের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন