সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,
বে অব বেঙ্গল সম্মেলন

অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সঠিক পরিকল্পনার তাগিদ মাহদী আমিনের

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সঠিক পরিকল্পনার তাগিদ মাহদী আমিনের

বিদ্যমান রাজনৈতিক, ভূরাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও সঠিক নীতি, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়োপযোগী প্রস্তুতির মাধ্যমে যেকোনো অনিশ্চয়তা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। সোমবার বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬-এ দেওয়া এক নীতি-বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমতা ও ন্যায়বিচারের ওপর জোর দেন তিনি। মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, প্রতিটি দেশের সঙ্গে ন্যায্যতা, সমতা এবং সুবিচারের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, বহুমুখী যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার পরিমণ্ডলে আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, বাস্তব জীবনে অনিশ্চয়তা একটি অনিবার্য বাস্তবতা হলেও সঠিক মূল্যবোধ, কার্যকর নীতি ও উপযুক্ত কর্মসূচির সমন্বয় ঘটিয়ে বৈশ্বিক যেকোনো সংকটকে সুযোগে রূপান্তর করা যায়। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় ১৩ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে।

এই জনগোষ্ঠীর জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিরবচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও পূর্ণ মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীজনদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে কর্মসংস্থানে পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে তিনি বাস্তবসম্মত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে কিছু সনাতন কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কার্যকর কারিগরি প্রশিক্ষণ, যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি ও জাতীয় শিক্ষাক্রম আধুনিকায়নের মাধ্যমে বহু নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র উন্মোচন করা সম্ভব।

জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের বেশ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন মাহদী আমিন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২০ হাজার খাল ও নদী পুনর্খনন এবং সামগ্রিক পানি সংরক্ষণের জন্য পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণসহ তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সরকারি উদ্যোগের কথা তিনি স্পষ্টভাবে জানান। অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকি থাকলেও উপযুক্ত নীতিমালার প্রয়োগ ঘটিয়ে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড এবং সর্বজনীন হেলথ কার্ড চালুর সরকারি পরিকল্পনার অগ্রগতি তুলে ধরেন তিনি। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের সব দেশ সম্মিলিতভাবে বর্তমান সময়ের ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক থিংকট্যাঙ্ক সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত এবারের বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন আন্তর্জাতিক বক্তা, ৩০০ জন অতিথি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি চিন্তাবিদ ও গবেষক অংশ নেন।