অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের সঙ্গে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেছেন তার লাখ লাখ সমর্থক। সাবেক এই ক্রিকেট তারকার রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ সমর্থক ও নেতাকর্মীদের এই বিশাল যাত্রার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ থেকে যাত্রা শুরু করেছে লং মার্চ। প্রাদেশিক সরকারে বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে পিটিআই। বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ ও যাত্রাবিরতি শেষে লং মার্চটি রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকা খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, আমি আপনাদের সবাইকে রাজপথে নেমে আসার আকুল আহ্বান জানাচ্ছি। তরুণসমাজ, তোমরা তোমাদের কারারুদ্ধ প্রিয় নেতার স্বার্থে রাজপথে নেমে এসো।
পাকিস্তানের রাজনীতিতে এই তীব্র সংকটের সূচনা হয় ২০২২ সালে। পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে পিটিআই ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ইমরান খান অভিযোগ করে আসছেন যে এই পতনের পেছনে সামরিক নেতৃত্বের হাত ছিল। দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী অবশ্য শুরু থেকেই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সংকট আরও গভীর রূপ নেয় ২০২৩ সালের মে মাসে যখন ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনার পর তার সমর্থকরা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালালে দেশজুড়ে ব্যাপক দমনপীড়ন শুরু হয়। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সামরিক আদালতে অনেকের বিচার সম্পন্ন হয়।
বর্তমানে ৭৪ বছর বয়সী ইমরান খান নিজেকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে দাবি করেন। সামরিক নেতৃত্ব এবং বর্তমান বেসামরিক সরকার ইমরান খানকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে মানতে নারাজ। তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা তুলে ধরলেও আদালতগুলোতে একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তবে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কেবল একটি মামলা ছাড়া তার অন্য সব সাজা বাতিল অথবা স্থগিত করা হয়েছে। পূর্বে এই লং মার্চটি গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়ার কথা ছিল। পিটিআইয়ের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার আলোচনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে কর্মসূচিটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহের শেষের দিকে সরকারের সাথে দলটির দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়। দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত পিটিআইয়ের সর্বশেষ বড় কর্মসূচিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নজির রয়েছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে শিপিং কনটেইনার। সম্ভাব্য অস্থিরতা মোকাবিলায় ইসলামাবাদ ও সংলগ্ন অঞ্চলে হাজার হাজার পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিদেশি দূতাবাস সংবলিত কূটনৈতিক চত্বর রক্ষায় ব্যাপক ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কোনোভাবেই রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমরা এই সমস্যার নিস্পত্তি একেবারে চিরতরে করব। কোনো রাজনৈতিক দলকে নিজেদের ইচ্ছামতো দেশের রাজধানীতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্তব্ধ করার সুযোগ দেওয়া যায় না।
সরকারি পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়া নাকভি দাবি করেন, আফগান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রস্তাবিত যৌথ নীতিতে ইমরান খানের দল একমত না হওয়ায় সমঝোতা ভেস্তে গেছে। পিটিআই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা অভিযোগ করেছে যে অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে তাদের নতিস্বীকার করাতে চেয়েছিল সরকার। সীমান্ত অঞ্চলে জঙ্গি হামলা বৃদ্ধির মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যৌথ নীতি না মানলে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকার ভেঙে দেওয়া হতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন