অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
শারদীয় দুর্গোৎসবে দেশের প্রতিটি নাগরিক ও সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে প্রশাসন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এই দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিশ্বের কাছে দেশের অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। সভায় বক্তব্য প্রদানকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা স্পষ্ট করে বলেন, আমরা বিশ্বের কাছে প্রমাণ করতে চাই যে এই দেশের প্রতিটি নাগরিক, প্রতিটি সম্প্রদায় ও প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী সম্পূর্ণ নিরাপদ। তারা নির্ভয়ে বসবাস করে এবং নিরাপদে নিজেদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে। উৎসবকে ঘিরে ছোট কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
সামাজিক মাধ্যমে গুজব রটিয়ে উৎসবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেন জেলা প্রশাসক। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে পূজা উদযাপন পরিষদ ও সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক সত্য প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, অপতথ্য শনাক্তে বিশেষ সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক কাজ করবে। চট্টগ্রাম মহানগরীর বাইরে জেলায় মোট ২ হাজার ২৮৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপ রয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এমন উসকানিমূলক তৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বিভ্রান্তি ছড়ালে পূজা উদযাপন কমিটিকে দ্রুত সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে। মণ্ডপের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং সহজে শনাক্ত করতে স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দিষ্ট পোশাক, কটি বা আর্মব্যান্ড ব্যবহারের তাগিদ দেন জেলা প্রশাসক। পুলিশ সুপার জানান, স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও মুঠোফোন নম্বর থানায় জমা দিতে হবে এবং মণ্ডপ বা জমি নিয়ে কোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধ থাকলে তা উৎসব শুরুর আগেই মীমাংসা করতে হবে।
প্রতিমা তৈরি, পরিবহন ও বিসর্জনের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক। দিনের আলোয় প্রতিমা আনা এবং সূর্যাস্তের আগেই বিসর্জন সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বিসর্জন ঘাটে পর্যাপ্ত আলো, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের ফিটনেস ও চালকের শারীরিক সক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কোনো আনন্দের মাঝে যেন বিষাদ না আসে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উৎসবের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নিজস্ব সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেন।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও উদারতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মানসিকতা আরও উদার করতে হবে, তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্প্রীতি শিখবে না। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। সভায় প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন