অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে ভারতের আসাম রাজ্যের দুই নাগরিক আহত হয়েছেন। বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা হলেন আব্দুল আলিম ও ইসমাইল হাসান। বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই ব্যক্তির নিরাপত্তায় পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল তিনটার দিকে কুড়িগ্রাম সীমান্তসংলগ্ন একটি নদীতে আহত অবস্থায় তাদের পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন নৌকার মাঝি। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাৎক্ষণিকভাবে দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় দুজনের শরীরেই বুলেটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তারা হাসপাতালে আসেন এবং প্রথমে সাধারণ মেঝেতে রাখা হলেও পরে নিরাপত্তা বিবেচনায় তাদের নির্ধারিত বেডে স্থানান্তর করা হয়।
আহত দুই ব্যক্তি নিজেদের ভারতের আসাম রাজ্যের মানকারচর থানার স্থায়ী বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ৪ অক্টোবর সীমান্ত এলাকায় নিজেদের গবাদিপশুকে নদীতে গোসল করানোর সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে। আহতদের অভিযোগ, তারা নিজেদের ভারতীয় পরিচয় স্পষ্ট করার পরও তাদের প্রচণ্ড মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক বাংলাদেশে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বারবার নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের চেষ্টা করলেও বাহিনীটি কোনো কথা কানে তোলেনি। একপর্যায়ে তাদের ওপর গুলি চালিয়ে মৃত মনে করে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
জীবনের তাগিদে তারা নদী পেরিয়ে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করলে স্থানীয় জেলেরা তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আহত আব্দুল আলিম ও ইসমাইল হাসান জানান, তারা যদি কোনো আইনগত অপরাধ করে থাকেন তবে ভারতীয় আইন অনুসারেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কাছে আহ্বান জানান যেন দ্রুত আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত পাঠানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারা নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। আহত দুই ভারতীয় নাগরিকের প্রকৃত পরিচয়, কীভাবে তারা সীমান্ত অতিক্রম করলেন এবং তাদের শরীরে গুলির সঠিক প্রেক্ষাপট কী—তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই ভারতীয় নাগরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তাদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়মিত তদারকি করছে। এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ রংপুর রিজিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি তারা বিকল্প মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠলে তাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন