সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,
হর্ন অব আফ্রিকা

ইথিওপিয়া সংকট নিরসনে চার আফ্রিকান দেশের ঐক্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

ইথিওপিয়া সংকট নিরসনে চার আফ্রিকান দেশের ঐক্য

সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধ এবং ইথিওপিয়ায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সামরিক পদক্ষেপের বদলে টেকসই রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জোর দাবি জানিয়েছে আঞ্চলিক চার প্রভাবশালী দেশ মিশর, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া ও সুদান। রোববার (৪ অক্টোবর) মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর নিউ আলামিনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে চার দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা এই আনুষ্ঠানিক যৌথ ঘোষণা দেন।

এই শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকি, সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ এবং সুদানের সামরিক বাহিনীর সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। বৈঠকের পর গৃহীত প্রস্তাবে ইথিওপিয়া সরকারের বিরোধিতাকারী সশস্ত্র জোটকে প্রত্যক্ষ সমর্থনের যে অভিযোগ আদ্দিস আবাবা তুলেছে, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট তিন দেশের প্রতিনিধিরা।

সম্মেলনের ভাষণে মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি স্পষ্ট করে জানান যে সীমান্তসংক্রান্ত যেকোনো সংকট উত্তরণে সংঘাতের কোনো স্থান নেই, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আদ্দিস আবাবার গৃহীত নানামুখী নীতির বিপরীতে চার দেশের এই অবস্থান প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ইথিওপিয়ার ক্রমবর্ধমান দূরত্বকে সামনে এনেছে।

ঘোষণাপত্রে সুদানের বর্তমান সামরিক নেতৃত্বাধীন সার্বভৌম সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করা হয় এবং সুদানি পক্ষগুলোর অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে একটি কার্যকর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর তাগিদ দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটিতে নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে, যেখানে সুদান ও ইথিওপিয়া পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের পাল্টা অভিযোগ এনেছে।

লোহিত সাগরের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে সম্মেলনে ঘোষণা করা হয় যে এর সার্বিক তদারকি কেবল উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলোর হাতেই সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক। মূলত সমুদ্রসীমা বিচ্ছিন্ন ইথিওপিয়ার নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি ও নিজস্ব বন্দর সুবিধা আদায়ের একতরফা তৎপরতার বিপরীতেই এই ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট মাহমুদ জানিয়েছেন, আদ্দিস আবাবা যদি মোগাদিশুর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে সোমালি বন্দরগুলো ব্যবহার করতে চায়, তবে তাতে তাদের কোনো বাধা থাকবে না।

নীল নদের উজানে নির্মিত মেগা প্রকল্প গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যামের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধে রয়েছে মিশর ও সুদান। যৌথ বিবৃতিতে কোনো একতরফা পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়, যা নিচের অববাহিকার দেশগুলোর পানির প্রবাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

ইথিওপিয়ার ফেডারেল বাহিনী এবং সাতটি ভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জোটের মধ্যে তীব্র লড়াই চলার মুহূর্তেই এই আন্তর্জাতিক যৌথ আহ্বান সামনে এলো। এই জোটে রয়েছে দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল টিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট, যাদের সঙ্গে দীর্ঘ দুই বছরের সংঘাত ২০২২ সালে একটি ভঙ্গুর শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। রোববার সরকারি ও মিত্র বাহিনী টিগ্রায়ের আঞ্চলিক রাজধানী মেকেলে শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়, যার আগেই টিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট শহরটি থেকে কৌশলগত কারণে সাময়িকভাবে সরে গিয়ে অন্য এলাকা থেকে কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দেয়। টিগ্রায়ের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা আব্রাহাম বেলে জানান, কেন্দ্র সরকার ওই অঞ্চলে একটি নতুন অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের সব প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আঞ্চলিক নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

ইথিওপিয়ার পক্ষ থেকে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের সহায়তার অভিযোগ করা হলেও তা নাকচ করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী ইয়েমানে গেব্রেমেস্কেল। সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, আদ্দিস আবাবা তাদের ওপর হামলার অন্যায্য পটভূমি তৈরির উদ্দেশ্যেই এমন অসত্য দাবি করছে।