সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,
তৃণমূল পর্যায়ে সমতা

ফাইভ স্টার হোটেলে বসে নারীর সমতা আসবে না: ইসি তাহমিদা

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

ফাইভ স্টার হোটেলে বসে নারীর সমতা আসবে না: ইসি তাহমিদা

রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলের বিলাসবহুল কক্ষে বসে কেবল কাগুজে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই সমাজে নারীর সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ। সোমবার (৫ অক্টোবর) নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জাতিসংঘ নির্বাচনী প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত জেন্ডার সমতাবিষয়ক এক বিশেষ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

বাস্তবমুখী সংস্কারের তাগিদ দিয়ে তিনি জানান, সমাজে নারীর সত্যিকারের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল ও মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। নারী ভোটার বৃদ্ধি ও তাদের জাতীয় নির্বাচনে সম্পৃক্ত করতে হলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল ও উপকূলীয় দুর্গম এলাকা পর্যন্ত পৌঁছানো অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনগুলোতে প্রতিটি রাজনৈতিক দল যেন নিজেদের মোট ভোটারের অনুপাত মাথায় রেখে নারীদের দলীয় ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে।

আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, কেবল বিধিমালা বা আইন চাপিয়ে দিলে বাস্তব পরিবর্তন আসবে না, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক রূপান্তর ঘটানোই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। ভোটার তালিকায় নারীদের নিছক সংখ্যাবৃদ্ধির বাইরে গিয়ে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবকে অর্থবহ করার আহ্বান জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু ভোটারের সংখ্যা বাড়ালেই ক্ষমতায়ন হয় না, বরং সাধারণ ভোটার ও প্রার্থী হিসেবে, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী পদে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও বেসরকারি সংস্থায় নারীর সমান অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, নির্বাচনে নারীর সার্বিক অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করতে হলে প্রথমত ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ ও শিক্ষাবান্ধব করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী মাঠে সাধারণ নারী ভোটার, নারী প্রার্থী ও নারী অংশীজনদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি, যাতে ভোটের মাঠে কাউকে কোনো ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার হতে না হয়। কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন।