অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
শেরপুরের মৃগী নদীতে নিখোঁজের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের ভাটারাঘাট এলাকার মৃগী নদী থেকে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। তল্লাশি অভিযানের পর নদী থেকে উদ্ধার হলো শিক্ষার্থীর মরদেহ।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম সৈয়দ সাদমান জয় (২২)। তিনি ঢাকার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা কুড়িগ্রামের ওহেদুন্নবী ওরফে মাখন মিয়া এবং মা শাহনাজ পারভীন শেরপুর সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পরিবারটি শেরপুর শহরের মধ্যশেরী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল। একসময় শিশু সাংবাদিকতার সাথেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে জয় তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ভাটারাঘাট এলাকায় মৃগী নদীর তীরে যান। সেখানে অবস্থানের সময় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় জয়ের বন্ধুকে মাদকসহ আটক করা হয় এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। স্বজনদের দাবি, অভিযানের মুখে আতঙ্কে জয় দৌড়ে পালিয়ে মৃগী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে তল্লাশি চালিয়ে সন্ধান না পেয়ে পুলিশের সহায়তা কামনা করেন। পুলিশ ঘটনাটি ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করলে রোববার বিকেল থেকে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে নদী থেকে জয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার জানান, শনিবার পুলিশের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় কোনো ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, শনিবার তাদের একজন উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে ভাটারাঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল। সেখানে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে মাদকসহ আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়। তবে অভিযানের ভয়ে কারও নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার বিষয়ে তাদের জানা নেই।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন