অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
শিশুর সর্দি-কাশি উপশমে দেশের অনেক পরিবারেই নিয়মিত মধু খাওয়ানোর দীর্ঘদিনের চল রয়েছে। তবে শিশুর বয়সের ওপর ভিত্তি করে মধু সেবনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলা জরুরি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে মধু খাওয়ানো কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। প্রাকৃতিক উপাদান হলেও যেকোনো খাবার সব বয়সের শিশুর জন্য নিরাপদ নয়।
চিকিৎসক ডা. ইসমত জেরিন সুরভী জানান, কেবল প্রাকৃতিক খাবার বলেই মধু সব বয়সী শিশুর শরীরে সমানভাবে সহনশীল বা নিরাপদ হয় না। শিশুর বয়স যদি এক বছরের কম হয়ে থাকে, তবে তাকে অবিলম্বে মধু খাওয়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ করা উচিত। তিনি আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে উল্লেখ করেন যে বারো মাসের কম বয়সী শিশুদের কোনো অবস্থাতেই মধু দেওয়া যাবে না।
প্রাকৃতিক মধুতে ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম (Clostridium botulinum) নামের একধরনের মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া উপস্থিত থাকতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়ার সুপ্ত স্পোরগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম। এই স্পোর শিশুর সংবেদনশীল পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করলে ইনফ্যান্ট বটুলিজম (Infant botulism) নামের একটি জটিল ও প্রাণঘাতী স্নায়বিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।
এই ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকদের সুস্পষ্ট পরামর্শ হলো, এক বছরের কম বয়সী শিশুকে সরাসরি কিংবা কোনো ধরনের খাদ্য বা পানির সাথে মিশিয়েও মধু দেওয়া যাবে না। মধু খাওয়ানোর পর শিশুর মধ্যে যদি কোষ্ঠকাঠিন্য, অত্যন্ত দুর্বলভাবে কাঁদা, মায়ের দুধ বা অন্য খাবার গিলতে মারাত্মক অসুবিধা কিংবা পেশি শিথিল হয়ে শরীর অস্বাভাবিক ঢিলে হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন