রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

হরমোনের কাজ ও শারীরবৃত্তীয় নিয়ন্ত্রণ জেনে নিন

স্বাস্থ্য ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

হরমোনের কাজ ও শারীরবৃত্তীয় নিয়ন্ত্রণ জেনে নিন

মানবদেহের যাবতীয় জৈবিক প্রক্রিয়া, কোষীয় কার্যক্ষমতা এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সবচেয়ে অপরিহার্য রাসায়নিক ভূমিকা পালন করে হরমোন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় হরমোন হলো অনাল বা নালীবিহীন গ্রন্থি থেকে সরাসরি রক্তে নিঃসৃত হওয়া এক ধরনের শক্তিশালী জৈব রাসায়নিক বার্তাবাহক। রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে এই বার্তাবাহক উপাদান শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গ বা লক্ষ্য কোষে পৌঁছায় এবং সেখানকার শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ নিখুঁতভাবে পরিচালনা করে।

দেহের সামগ্রিক বৃদ্ধি ও কায়িক বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করাই হরমোনের অন্যতম প্রাথমিক কাজ। মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নির্গত গ্রোথ হরমোন হাড়, পেশি ও অন্যান্য কলার সুষম বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। অন্যদিকে গলার সামনের দিকে থাকা থাইরয়েড গ্রন্থি নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোন দেহের বিপাকীয় হার নির্ধারণ করে এবং কোষে শক্তি উৎপাদনের গতি সচল রাখে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন পরস্পর বিপরীতমুখী কিন্তু সমন্বিত ভূমিকা পালন করে, যা ব্যাহত হলে মানুষের শরীরে ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী বিপাকীয় জটিলতা দেখা দেয়।

জরুরি পরিস্থিতিতে ভয়, উত্তেজনা কিংবা প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে অ্যাড্রেনালিন হরমোন। এটিকে সাধারণ ভাষায় জীবনরক্ষাকারী হরমোনও বলা হয়, যা হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দিয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার শারীরিক সক্ষমতা তৈরি করে। পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখা, তরল ও খনিজের সমতা বজায় রাখা এবং মানসিক প্রশান্তি বা ঘুমের চক্র পরিচালনায় মেলাটোনিন ও সেরোটোনিনের মতো হরমোন সরাসরি অংশ নেয়। 

এছাড়া মানবদেহের বয়ঃসন্ধিকালীন রূপান্তর, প্রজনন অঙ্গের সুস্থতা ও বংশবৃদ্ধির সম্পূর্ণ চক্র পরিচালিত হয় ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন ও টেস্টোস্টেরনের মতো গুরুত্বপূর্ণ যৌন হরমোনের মাধ্যমে। দেহের যেকোনো একটি প্রধান হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণ বা ঘাটতি দেখা দিলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় গুরুতর হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়।