অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ১৫ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বন্দর শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে বন্দর ভবনের প্রধান ফটকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক জড়ো হয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেন। মিছিল, অবস্থান এবং স্লোগানের কারণে একপর্যায়ে বন্দর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। দেশীয় সক্ষমতা উপেক্ষা করে বিদেশি ইজারা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে শ্রমিক নেতারা উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ এককভাবে এনসিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। দেশীয় জনবলের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা দিয়েই টার্মিনালটি অত্যন্ত সফল ও লাভজনকভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। ফলে হঠাৎ করে এমন একটি কৌশলগত ও লাভজনক জাতীয় স্থাপনা বিদেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে তুলে দেওয়ার যৌক্তিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, টিইউসি জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান এবং জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, এই দীর্ঘমেয়াদি ইজারা চুক্তি কার্যকর হলে টার্মিনালের বর্তমান অভিজ্ঞ শ্রমিকদের একটি বড় অংশ সরাসরি কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়বেন। তবে এটি নিছক চাকরি হারানোর ভয় নয়, বরং দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অংশের পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘ মেয়াদের জন্য বিদেশি শক্তির হাতে চলে যাওয়াকে তারা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন। তারা দাবি করেন, বন্দরের আধুনিকায়ন কিংবা দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন থাকলে তা দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে।
নেতারা জোর দিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সামর্থ্য রয়েছে এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চেয়েও বেশি দক্ষতার সাথে কনটেইনার পরিচালনা করার প্রমাণ দেশের শ্রমিকেরা ইতিমধ্যে দিয়েছেন। অনতিবিলম্বে এনসিটি ইজারার আত্মঘাতী প্রস্তাব বাতিল করে সম্পূর্ণ দেশীয় ব্যবস্থাপনায় টার্মিনালটির পরিচালন কার্যক্রম বহাল রাখার জোর দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে এ প্রস্তাব প্রত্যাহার করা না হলে আন্দোলন আরও তীব্র ও সর্বাত্মক রূপ নেবে। দাবি আদায়ে বন্দর সচল রাখা অনিশ্চিত করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি এমনকি অলআউট ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা, যার ফলে দেশের সামগ্রিক সমুদ্রবাণিজ্য চরম অচলাবস্থার মুখে পড়তে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন