শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,
মানসিক স্বাস্থ্য দিবস

মানসিক সমস্যায় সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১০:৪০ এএম

মানসিক সমস্যায় সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাদের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। শনিবার বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আগের দিন শুক্রবার দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সার্বিক মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে তৃণমূলের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর তিনি তাগিদ দেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশেও দিবসটি পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে "জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি"। এই প্রতিপাদ্যকে বর্তমান বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি উল্লেখ করেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ সেবা পরিকল্পনায় তাদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই এই প্রতিপাদ্যের মূল শিক্ষা।

মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সার্বিক সুস্থতা, কর্মক্ষমতা এবং উন্নত জীবনমানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রাষ্ট্রপতি বাণীতে বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক অস্থিরতা, একাকিত্ব, মাদকাসক্তি, পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের নিত্যদিনের চাপ এবং প্রাত্যহিক জীবনের নানা বিরূপ প্রতিকূলতা মানুষের মনের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা অপরিহার্য। মানসিক সুস্থতাসম্পন্ন ও কর্মক্ষম একটি সুস্থ জাতি গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, সাধারণ মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সমন্বিত করার কার্যকর উদ্যোগ ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মানসিক সমস্যা শনাক্ত করা এবং আক্রান্তদের কাছে সঠিক চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিতে সমাজ ও পরিবারের সচেতন ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।

ঝাড়ফুঁক বা অবৈজ্ঞানিক কোনো অপচিকিৎসার বদলে পেশাদার চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। পরিশেষে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।