রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,
হিমালয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ

নেপালে ভূমিধসে আকস্মিক বন্যা পাঁচ জেলায় জারি হলো জরুরি সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১০:৫২ এএম

নেপালে ভূমিধসে আকস্মিক বন্যা পাঁচ জেলায় জারি হলো জরুরি সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

নেপালের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসের কারণে নদীর গতিপথ রুদ্ধ হয়ে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেছে বহু বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। বিপর্যয় এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো থেকে বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্থানীয় ও জাতীয় প্রশাসন। তবে রোববার পর্যন্ত এই আকস্মিক দুর্যোগে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত গোর্খা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে আকস্মিক এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধসে পড়ার কারণে বুধি গণ্ডকী নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে নদীর উপরিভাগে পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং ভাটির দিকে তীব্র বন্যা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে।

গোর্খা জেলার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানান, নদীর ভাটি অঞ্চলে বসবাসকারী জনসাধারণকে কোনো কালবিলম্ব না করে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন্যার পানির তোড়ে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি এবং দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। এছাড়া নদীর অববাহিকায় থাকা একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মোট পাঁচটি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো গোর্খা, তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নওয়ালপরাসি এবং পশ্চিম নওয়ালপরাসি।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই পাঁচ জেলার নদীতীরবর্তী জনবসতিগুলোর বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রমে প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয়দের সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

উদ্ধার তৎপরতায় মোতায়েন করা হয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাটিতে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকাগুলোর ওপর হেলিকপ্টার দিয়ে আকাশপথেও নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছেন।

হিমালয়ঘেরা দেশটিতে এই নতুন বন্যা আগস্ট মাসের ভয়াবহ বিপর্যয়ের করুণ স্মৃতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

গত আগস্টে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী বন্যায় দেশটিতে অন্তত এক হাজার ৪৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং নিখোঁজ হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। ওই সময় বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অগণিত ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

ভৌগোলিক দিক থেকে বুধি গণ্ডকী নদীটি ত্রিশূলী নদীর একটি অন্যতম প্রধান উপনদী। ফলে এই নদীর প্রবাহে যেকোনো আকস্মিক পরিবর্তন কিংবা উপচে পড়া পানি ভাটির বিস্তৃত জনপদে নতুন করে বড় ধরনের প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন প্রেক্ষাপটেই ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্নে রাখতে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল সরকার।

এখন পর্যন্ত নতুন এই ঘটনায় কারো মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত না হলেও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারী দলগুলো পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দুর্গত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা বিধানে কাজ অব্যাহত রেখেছে।