সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,
ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড

তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও অনিশ্চিত ইশান কিষান সূর্যবংশীকে নিয়ে প্রশ্ন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১১:১৮ এএম

তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও অনিশ্চিত ইশান কিষান সূর্যবংশীকে নিয়ে প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও অনিশ্চিত ইশান কিষান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও মাঠে নামা হচ্ছে না এই ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটারের। ডান পায়ের পেশির চোটের কারণে এখনো খেলার মতো ফিটনেস ফিরে পাননি তিনি।

ওয়েলিংটনের ম্যাচের আগে ভারতীয় দলের একাদশ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ইশানের অনুপস্থিতিতে দলের ব্যাটিং অর্ডার সাজানো নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, ইশান কিষান ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও এখনো পুরোপুরি ম্যাচ খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারেননি। বোর্ডের মেডিকেল দল সার্বক্ষণিকভাবে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে ডান পায়ের অ্যাডাক্টর পেশিতে টান লেগেছিল তার। তৃতীয় ম্যাচের স্কোয়াডে ব্যাকআপ হিসেবে কুমার কুশাগ্রকে রাখা হয়েছে।

ইশানের চোটের কারণে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন তরুণ ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে নিজের পরিচিত ওপেনিং পজিশনের বদলে তিন নম্বরে ব্যাট করতে পাঠায়। দলীয় ব্যবস্থাপনার এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত মোটেও কাজে আসেনি। ক্রিজে নেমে মাত্র আট বলে চার রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয় এই উদীয়মান ক্রিকেটারকে।

সূর্যবংশীকে তার স্বাভাবিক পজিশনের বাইরে নামানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও মুরলী কার্তিক। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, ইশানের অনুপস্থিতিতে তরুণ সূর্যবংশীকে তিন নম্বরে না নামিয়ে সরাসরি ওপেনিংয়ে পাঠানো দরকার ছিল এবং তিন নম্বর পজিশন সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া যেত অভিজ্ঞ সঞ্জু স্যামসনকে।

সূর্যবংশীর ব্যাটিং বিশ্লেষণ করে অশ্বিন নিজের আলোচনায় জানান, মাঠে দেখে মনে হচ্ছিল ছেলেটি যেন নিজের পরিচিত ক্রিকেটীয় আবহের বাইরে চলে এসেছে। আটটি বলের প্রতিটি বলের মুখোমুখি হয়েই সে আগ্রাসী শট খেলার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছিল। অশ্বিনের মতে, সেই চরম মুহূর্তে সূর্যবংশীর অপর প্রান্তে এমন একজন অভিজ্ঞ ব্যাটারের থাকা জরুরি ছিল, যিনি তাকে শান্ত থেকে পরিস্থিতি বিচার করে খেলার পরামর্শ দিতেন। অনেক সময় ব্যাটারকে শরীরের কাছাকাছি বল রেখে দেখার সহজ পরামর্শ দেওয়াও ম্যাচের চাপে সম্ভব হয় না। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ব্যাট করতে নামার চাপ এই তরুণের স্বাভাবিক খেলার ধরনের সঙ্গে খাপ খায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার মুরলী কার্তিকও একই দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। কার্তিকের মতে, সূর্যবংশীকে দলে রাখতে হলে তাকে বিশেষজ্ঞ ওপেনার হিসেবেই মাঠে নামানো উচিত। তিনি মন্তব্য করেন, ওপেনার হিসেবেই এই তরুণ সবচেয়ে কার্যকর, অথচ তাকে এমন একটি মিডল অর্ডার পজিশনে পাঠানো হয়েছে যেখানে খেলার কোনো পূর্বঅভিজ্ঞতা তার ছিল না। তিনি বয়সে তরুণ এবং ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একটি নির্দিষ্ট ভূমিকায় নিজেকে অভ্যস্ত করেছেন। কার্তিক আরও মনে করিয়ে দেন যে ভারত ওই ম্যাচে জয় পেলেও সূর্যবংশীর ভূমিকা নিয়ে ওঠা কৌশলগত প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়া যায় না।