রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,
ব্যালন ডি’অর ২০২৬

ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে চার তারকা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে চার তারকা

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে।

২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত খেলোয়াড়দের ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিচার করে ফ্রান্স ফুটবল কর্তৃপক্ষ এই পুরস্কার প্রদান করছে। চূড়ান্ত ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তিন সাবেক বিজয়ী উসমান দেম্বেলে, রদ্রি ও রেকর্ড আটবারের বিজয়ী লিওনেল মেসি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি জয়ের দৌড়ে চারজন তারকাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।

পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্বস্ত ক্রীড়া বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম অপটার মূল্যায়নে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উঠে এসেছেন হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসি।

ব্যক্তিগত অর্জনে অবিশ্বাস্য এক মৌসুম পার করে এই তালিকায় দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।

বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১টি গোল করেছেন এই ইংলিশ অধিনায়ক। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনো ফুটবলার এ মৌসুমে তার চেয়ে বেশি গোল পাননি। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে এর চেয়ে বেশি গোলের একক মৌসুম রয়েছে কেবল ২০১১-১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির করা ৭৩ গোল।

বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে তিনি নিজের ঝুলিতে ভরেছেন দ্বিতীয় ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। বায়ার্নকে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপের ট্রফি জেতানোর পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে তুলেছেন তিনি, যেখানে করেছিলেন ১৪টি গোল। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে নেওয়ার পথে কেইন করেছেন ছয়টি গোল।

তবে বিশ্বকাপের আসরে কোনো বড় বৈশ্বিক বা ইউরোপীয় শিরোপা ছাড়াই ব্যালন ডি’অর জেতার বিরল দৃষ্টান্ত কেবল ১৯৯৪ সালে হ্রিস্টো স্তইচকভ এবং ২০১০ সালে মেসির রয়েছে। কেইন জিতলে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম কোনো ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে তিনি এই সম্মান স্পর্শ করবেন।

কেইনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল।

১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বার্সেলোনার হয়ে এক মৌসুমে ২৪ গোল এবং ১৭টি অ্যাসিস্টসহ মোট ৪১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এই তরুণ উইঙ্গার। মেসির পর বার্সেলোনার হয়ে এত অল্প বয়সে এমন পরিসংখ্যান আর কারও নেই।

লা লিগায় সর্বোচ্চ ১৭টি অ্যাসিস্ট এবং রেকর্ড ১১৮টি সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি উন্মুক্ত খেলা থেকে ১০৭টি সুযোগ তৈরি করে তিনি ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের সবার ওপরে জায়গা করে নেন।

যদিও স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হয়েও আসরে আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল করায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও ক্লাবের অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা তাকে সেরাদের কাতারে রেখেছে।

ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়।

বিশ্বকাপে ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১০ গোল করে তিনি গোল্ডেন বুট লাভ করেন এবং একাধিক আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতার কীর্তি গড়েন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২ গোলের রেকর্ড এখন তাঁর দখলে।

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল এবং লা লিগায় সর্বোচ্চ ২৫ গোল করেন তিনি। এছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগেও ১৫ গোল নিয়ে ছিলেন শীর্ষে। তবে দলের ব্যর্থতা এবং স্পেনের কাছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হার তার ট্রফি জয়ের সম্ভাবনাকে কিছুটা কঠিন করে তুলেছে।

অন্যদিকে রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসিকে নিয়েও জল্পনা শেষ হয়নি।

আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে আটটি গোল এবং চারটি অ্যাসিস্ট করে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন তিনি। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের দেওয়া একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনা পরাস্ত হলেও ব্যক্তিগতভাবে ২৫টি সুযোগ তৈরি করেছিলেন মেসি।

যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে ৩০ ম্যাচে ২৯ গোল ও ২৩টি অ্যাসিস্টসহ ৫২ গোলে ভূমিকা রেখে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সহায়তাকারী হন এই কিংবদন্তি।

তবে উত্তর আমেরিকান লিগের পারফরম্যান্স ইউরোপীয় ভোটারদের কাছে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মাঝে ভিন্ন মত রয়েছে।