রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

নবীজির দৈহিক অবয়ব ও সৌন্দর্য যেমন ছিল, হাদিসের বর্ণনায় বিবরণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

নবীজির দৈহিক অবয়ব ও সৌন্দর্য যেমন ছিল, হাদিসের বর্ণনায় বিবরণ

বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও পবিত্র অবয়বের আলোচনা মুসলিম উম্মাহর জন্য অফুরন্ত রহমত ও আত্মিক কল্যাণের অন্যতম উৎস। সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আধ্যাত্মিক শিক্ষা, ঐশী প্রজ্ঞা ও শরিয়তের বিধান সংরক্ষণের পাশাপাশি তাঁর বাহ্যিক শারীরিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যের বিবরণও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

ইসলামিক ঐতিহাসিক নথি ও হাদিস গ্রন্থ শামায়েলে তিরমিজির সপ্তম বর্ণনায় আমিরুল মুমিনিন হজরত আলী (রা.) মহানবী (সা.)-এর শারীরিক রূপ ও গঠন চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন।

হজরত আলী (রা.) যখনই নবী কারিম (সা.)-এর দৈহিক অবয়বের স্মৃতিচারণা করতেন, তখন বলতেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত দীর্ঘকায় ছিলেন না, আবার খর্বাকৃতিরও ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন সুষম ও মধ্যম শারীরিক গঠনের অধিকারী।

তাঁর মাথার চুল অতিরিক্ত কোঁকড়ানো ছিল না এবং পুরোপুরি সোজাও ছিল না; বরং চুলে পরিমিত কোঁকড়ানো ভাব বিরাজ করত।

পবিত্র শরীরের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর শরীর অতিরিক্ত ভারী বা মোটা ছিল না। চেহারা মোবারক নিখুঁত গোল ছিল না, তবে কিছুটা গোলাকার ভাব ছিল। তাঁর গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল শ্বেত ও রক্তিম আভার চমৎকার সংমিশ্রণ।

নয়নযুগল ছিল গভীর কালো বর্ণের এবং চোখের পাপড়িগুলো ছিল প্রাকৃতিকভাবে দীর্ঘ ও সূক্ষ্ম।

হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর অস্থিসন্ধি বা হাড়ের জোড়াগুলো ছিল সুদৃঢ় ও বলিষ্ঠ। পুরো দেহ মোবারকে অতিরিক্ত কোনো লোম ছিল না, তবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত একটি অত্যন্ত পাতলা ও চিকন লোমের রেখা প্রসারিত ছিল। তাঁর দুই হাত ও দুই পায়ের তালু ছিল পর্যাপ্ত মাংসে পরিপূর্ণ ও কোমল।

চলার ভঙ্গিতেও ছিল অতুলনীয় দৃঢ়তা ও স্বাতন্ত্র্য। তিনি যখন পথ চলতেন, তখন কদম পূর্ণভাবে উঠিয়ে মাটিতে রাখতেন, যা দেখে মনে হতো যেন তিনি কোনো উঁচু টিলা থেকে নিম্নভূমির দিকে স্বাচ্ছন্দ্যে অবতরণ করছেন। কারও সঙ্গে কথা বলতে গেলে কিংবা কারও দিকে তাকালে কেবল ঘাড় না ফিরিয়ে পূর্ণ অবয়ব নিয়ে মনোনিবেশ করতেন। তাঁর উভয় কাঁধের মাঝামাঝি স্থানে মোহরে নবুওয়াত শোভা পেত।

শারীরিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি তাঁর চারিত্রিক ঔদার্য ছিল অনন্য। তিনি ছিলেন সমকালের মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ও সত্যবাদী।

স্বভাবের দিক থেকে তিনি ছিলেন সর্বাধিক কোমল এবং বংশমর্যাদায় সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত। প্রথম দেখায় তাঁর স্বাভাবিক গাম্ভীর্যের কারণে যে কারও অন্তরে সমীহ ও ভীতি জেগে উঠত, কিন্তু সান্নিধ্যে এসে যে ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে পরিচিত হতো, সে তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসায় আকৃষ্ট হয়ে পড়ত।

তাঁকে প্রত্যক্ষকারী সাহাবিরা অকপটে সাক্ষ্য দিয়ে বলতেন, জীবনের সমগ্র অভিজ্ঞতায় তাঁর পূর্বে কিংবা পরে এমন অতুলনীয় সৌন্দর্যের অধিকারী আর কোনো মানুষ তারা কখনোই প্রত্যক্ষ করেননি।