অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেশ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির প্রধান বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট।
তিনি দাবি করেছেন, সম্ভাব্য বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে নেতানিয়াহু যেসব অবাস্তব আর্থিক রূপরেখা সামনে আনছেন, তা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় য়াশার পার্টির শীর্ষ নেতা আইজেনকোট ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, সমাজকে বিভক্ত এবং সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এখন জাতীয় অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
বাস্তবধর্মী নীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে নেতানিয়াহু কল্পনার জগতে বাস করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেল ও প্রথাগত আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিকল্প পথে অর্থনীতি সচল রাখার এই চিন্তা মূলত একজন ভারসাম্যহীন ব্যক্তির অদূরদর্শী পাগলামি।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুর দেওয়া একটি বিশেষ বক্তব্যের পর।
সেখানে প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গাজা সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক মহল থেকে কঠোর ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলে ইসরায়েল বিকল্প হিসেবে বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সি ও সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বৈশ্বিক লেনদেন চালু রাখতে পারে।
নেতানিয়াহুর এই বিতর্কিত ধারণাকে টিপ্পনী কেটে `বিবি কয়েন` বলে উপহাস করেন আইজেনকোট।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, মূলধারার বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অনির্ভরযোগ্য ডিজিটাল মুদ্রার ওপর ভরসা করলে কীভাবে ইসরায়েলি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রি করবে কিংবা দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে।
তার দাবি, এমন পদক্ষেপের কারণে দেশীয় শিল্প-কারখানা বিদেশে স্থানান্তরিত হবে, সাধারণ মানুষের আমানত ও সঞ্চয় বিনষ্ট হবে, ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান কমবে এবং শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো অপরিহার্য খাতের বাজেট সংকুচিত হয়ে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
আইজেনকোটের এই কড়া রাজনৈতিক সমালোচনার পাশাপাশি ইসরায়েলের নিজস্ব অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞরাও নেতানিয়াহুর প্রস্তাবকে মারাত্মক বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
আর্থিক বিশ্লেষকরা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়। উপরন্তু শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের খামখেয়ালি বক্তব্য আন্তর্জাতিক আর্থিক মহলে ইসরায়েলের বিশ্বাসযোগ্যতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মূলত গাজায় চলমান সামরিক আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তেল আবিবের ওপর নানামুখী নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বাড়ছে, যা নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নজিরবিহীন বাগযুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন