অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গ্রামে গ্রামে গিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অস্ত্রোপচার শিবিরের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নতুন এই কর্মপরিকল্পনার আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের শারীরিক খোঁজখবর নেবেন এবং তাদের রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করবেন। এর ফলে জটিল রোগাক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেই রোগীরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রচলিত কেক কাটার আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করে এই মানবিক স্বাস্থ্যশিবির ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে ভিত্তি করে রাজনৈতিক চর্চা চালালেও মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন কিংবা খাদেমদের প্রাতিষ্ঠানিক কল্যাণে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
তিনি ঘোষণা করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সারা দেশের তিন লক্ষাধিক মসজিদের ইমাম ও খাদেমদের পেশাগত অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে আগামী তিন বছরের মধ্যে জাতীয় কাঠামোর আওতায় এনে নিয়মিত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
সরকারের উন্নয়নমূলক মহাপরিকল্পনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি জানান, সাধারণ পরিবারের সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড, প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ, তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং নদী ও খাল খননের মতো ইতিবাচক রূপরেখা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশে ২৫ কোটি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে।
চক্ষুসেবা শিবিরের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি চোখের সমস্যায় ভোগা নাগরিকের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, যাতে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক কর্মজীবনের পাশাপাশি ব্যালট পেপারে দলীয় প্রতীক নির্ভুলভাবে দেখে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত পৃথক সমাবেশে ৫৪৮ জন মেধাবী নারী শিক্ষার্থীর মাঝে ব্যক্তিগত যাতায়াতের সুবিধার্থে গোলাপি রঙের বাইসাইকেল হস্তান্তর করা হয়।
একই সঙ্গে আরও এক হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীর হাতে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ছবিযুক্ত শুভেচ্ছা মগ তুলে দেওয়া হয়। নারীশিক্ষার সামগ্রিক বিস্তার, বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত এবং পড়ালেখায় উৎসাহ জোগাতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানান আয়োজকেরা।
সমাবেশে বাল্যবিয়ে এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের মেধাবী নারী শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশের রূপকার। ছাত্রীরা যেন গ্রামীণ জনপদে বখাটেদের উৎপাত ও সামাজিক বাধার শিকার না হয়ে নিরাপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
রাজনৈতিক পটভূমির স্মৃতিচারণা করে তিনি আরও জানান, অতীত সরকারের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাইমা রহমানের জন্মদিন পালন করেছিলেন। জিয়া পরিবারের কল্যাণ ও সার্বিক মঙ্গল কামনায় তিনি গত বিশ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার শিবগঞ্জের দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে মধ্যাহ্নভোজ বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবনী আকতার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাত। সমাবেশ শেষে জাইমা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া পরিচালনা করা হয়।
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুদিনব্যাপী এই চক্ষুশিবিরে প্রায় চার হাজার মানুষকে বিনামূল্যে ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সেবা প্রদান করা হয়েছে। এর আগে শিবগঞ্জের মোকামতলা এলাকার সৈয়দপুর ইউনিয়নে পরিচালিত প্রথম দিনের শিবিরে আরও দুই হাজার চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন