অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তবর্তী লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলীগঞ্জ সীমান্তে সানিয়াজান নদীতে পাথর ও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি ও সাউন্ড বা স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের মেখলীগঞ্জের স্থানীয় বিধানসভার বিধায়ক দধিরাম রায় প্রকাশ্যেই বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক ও চরম উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন।
ভারতীয় ওই জনপ্রতিনিধি দাবি করেন, সীমান্তে বিএসএফ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে কেউ প্রবেশ করলে তাদের ওপর সরাসরি গুলি চালানো হবে। একই সঙ্গে তিনি সীমান্ত এলাকায় দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং শূন্যরেখায় নজরদারি আরও কঠোর করার ওপর জোর দেন।
তবে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে একতরফাভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হলেও সীমান্তের প্রকৃত চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি গ্রামবাসীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা কোনো সীমানা লঙ্ঘন না করে সম্পূর্ণ নিজেদের ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থান করেই সানিয়াজান নদীতে পাথর ও বালু সংগ্রহের স্বাভাবিক কাজ করছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফ সদস্যরা অন্যায়ভাবে আন্তর্জাতিক শূন্যরেখা বা নো-ম্যানস ল্যান্ডের কাছাকাছি চলে এসে মহড়া প্রদর্শন করে এবং নদীতে কর্মরত নিরীহ বাংলাদেশিদের ওপর চড়াও হয়।
সীমান্তের এই আকস্মিক অস্থিরতা ও ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসী আচরণের প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি সূত্র এবং সীমান্ত এলাকার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ভারতীয় বাহিনীর অপতৎপরতা এবং ভারতীয় রাজনৈতিক নেতার আক্রমণাত্মক বক্তব্যের বিষয়টিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও অস্থিরতা রোধে বাহিনীর নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
সীমান্তে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে যেকোনো উসকানির তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে বিজিবি। বিদ্যমান আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে, সীমান্তে গুলিবর্ষণ বা উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনার প্রেক্ষিতে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিক কড়া প্রতিবাদলিপি পাঠানো এবং পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সীমান্তবর্তী জনগণের জানমালের সুরক্ষা এবং দেশের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব অটুট রাখতে বিজিবি সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে সীমান্তজুড়ে বিশেষ টহল ও সতর্কতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন